তদন্তে উঠে এসেছে, উত্তরপ্রদেশের ভোভাপুর এলাকায় কিছু যুবক রেল স্টেশন এবং সামরিক ঘাঁটির ছবি ও ভিডিও তুলে বিদেশে পাঠাচ্ছিল। বিনিময়ে মিলত অর্থ। আরও বেশি আয় করতে নতুন সদস্য জোগাড় করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 23 March 2026 19:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাধারণ সন্দেহজনক গতিবিধি থেকে শুরু, আর সেখান থেকেই ধরা পড়ল ভয়াবহ গুপ্তচর চক্র (Spy Network)। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের (Gaziabad Spy Network) কৌশাম্বী থানায় ১৪ মার্চ পাওয়া একটি সূত্রের ভিত্তিতে শুরু হওয়া তদন্ত এখন দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুতর নিরাপত্তা ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
প্রথমে মনে হয়েছিল কয়েকজন যুবকের অসংলগ্ন কাজকর্ম। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে - এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পাকিস্তান থেকে পরিচালিত সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক। এখনও পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকজন নাবালকও রয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, উত্তরপ্রদেশের ভোভাপুর এলাকায় কিছু যুবক রেল স্টেশন এবং সামরিক ঘাঁটির ছবি ও ভিডিও তুলে বিদেশে পাঠাচ্ছিল। বিনিময়ে মিলত অর্থ। আরও বেশি আয় করতে নতুন সদস্য জোগাড় করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
প্রথম দফায় ধরা পড়া অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। সেখানে মিলেছে সামরিক স্থাপনা, রেলপথ, শিবির এলাকা সংক্রান্ত অসংখ্য ছবি, ভিডিও ও অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য। স্পষ্ট হয়ে যায়, পরিকল্পিত নজরদারির কাজ চলছিল।
এরপর গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে মূল নির্দেশদাতাদের নাম - পাকিস্তান থেকে পরিচালিত সুহেল মালিক, নওশাদ আলি ও সমীর নামে তিনজন। সমাজমাধ্যম ও এনক্রিপ্ট করা বার্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে চলত যোগাযোগ। কোথায় ছবি তুলতে হবে, কোন দিক থেকে, কখন পাঠাতে হবে, সবই নির্দিষ্ট করে দেওয়া হত।
প্রতিটি কাজের জন্য ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হত। লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তিগত দক্ষতা রয়েছে এমন যুবকদের টার্গেট করা। মোবাইল মেরামতির কাজ করেন, নজরদারি যন্ত্র বসানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন মানুষদেরই বেশি টানা হত। আর্থিকভাবে দুর্বলদেরও ব্যবহার করা হয়েছে।
তদন্তে আরও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। দিল্লি থেকে জম্মু পর্যন্ত রেলপথে সৌরচালিত নজরদারি যন্ত্র বসিয়ে সরাসরি তথ্য পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। ইতিমধ্যেই কিছু জায়গায় এই ব্যবস্থা চালুও করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পাশাপাশি চলছিল আলাদা এক জাল। দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে বিদেশে বার্তা আদানপ্রদান। নানান কৌশলে সিম সংগ্রহ করে তা ব্যবহার করা হত, যাতে সূত্র খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়।
এই চক্রের বিস্তার একাধিক রাজ্য ছাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। তদন্তকারীদের মতে, এটি শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, ভবিষ্যতের বড় হামলার প্রস্তুতির অংশও হতে পারে। এখন গ্রেফতারদের নিয়ে প্রতিটি জায়গা ঘুরে পুরো নেটওয়ার্কের ছবি পুনর্গঠন করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য পাকিস্তানে পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন বায়ুসেনা ঘাঁটিতে কর্মরত এক ব্যক্তি। রাজস্থান ইন্টেলিজেন্সের অভিযানে এই গ্রেফতারি হয়। কয়েক মাস ধরে চলা তদন্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে আর এক সন্দেহভাজনের আটক দিয়ে যার সূত্রপাত হয়েছিল (Defence Data Leak Pakistan India Spy Network)।
৩৬ বছর বয়সি সুমিত কুমার, উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের বাসিন্দা। তিনি অসমের ডিব্রুগড় জেলার চাবুয়া এয়ার ফোর্স স্টেশনে মাল্টি-টাস্কিং স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, নিজের কর্মস্থলের সুযোগ নিয়ে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনা সম্পর্কিত গোপন তথ্য সংগ্রহ করে তা পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠাতেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই তথ্য আদানপ্রদান হত বলে জানা গিয়েছে।