প্রবল বন্যায় বিপর্যস্ত পাকিস্তান। তবু আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও ভারতের বিরুদ্ধে মৃতদেহ ভেসে আসার অভিযোগ তুললেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। লাহোরে ৪০ বছরে প্রথম ভয়াবহ বন্যা।

প্রবল বন্যায় বিপর্যস্ত পাকিস্তান
শেষ আপডেট: 30 August 2025 08:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল বন্যায় অস্থির পাকিস্তান। তবু কূটনৈতিক মহল অবাক হয়ে দেখল, প্রাণ বাঁচানোর জন্য ভারতের আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও এবার বন্যার দায় ভারতের ঘাড়েই চাপাচ্ছে ইসলামাবাদ।
শিয়ালকোটের বন্যাদুর্গত এলাকা ঘুরে দেখে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিফ সাংবাদিকদের চমকে দেওয়া মন্তব্য করলেন, “বন্যার জল নাকি ভারত থেকে মৃতদেহ ভেসে আনছে পাকিস্তানে!” শুধু তাই নয়, তিনি দাবি করলেন, বন্যার জলে ভারত থেকে ভেসে এসেছে গবাদি পশুর মৃতদেহ ও বিভিন্ন পরিকাঠামোর ধ্বংসাবশেষও।
কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা। ভারতের দেওয়া আগাম সতর্কবার্তা পেয়েই পাকিস্তান প্রশাসন দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরাতে পেরেছিল। নয়তো প্রাণহানি আরও ভয়াবহ হতে পারত।
লাহোরের আবাসিক এলাকার বড় অংশ এখন জলমগ্ন। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রবি নদী এবার এমন বন্যা দেখাল, যা প্রায় চার দশকে হয়নি। লাহোরের ডেপুটি কমিশনার সৈয়দ মুসা রাজা জানিয়েছেন, ৩৮ বছর পর শহরে বন্যার জল ঢুকেছে।
পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে গত এক সপ্তাহ ধরে বন্যার দাপট সবচেয়ে বেশি। শিখদের পবিত্র স্থান কর্তারপুরসহ অন্তত ১,৭০০ গ্রাম এখন জলের তলায়। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায়ই প্রাণ হারিয়েছেন ২২ জন।
বৃষ্টিপাত, নাকি ভারতের ‘জল আগ্রাসন’?
পাক প্রশাসনের দাবি, অভূতপূর্ব মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ভারত নাকি অতিরিক্ত জল ছেড়েছে শতদ্রু, রবি ও চেনাব নদীতে। এর আগেই পাক উন্নয়নমন্ত্রী আহসান ইকবাল ভারতের বিরুদ্ধে ‘জল আগ্রাসনের’ অভিযোগ করেছিলেন।
কিন্তু এরই মধ্যে পাকিস্তানকে মানবিকতার খাতিরে বন্যার তথ্য পাঠিয়েছে ভারত। কারণ ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত স্থগিত রেখেছে সিন্ধু জল চুক্তি। তারপর থেকে সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে বন্যা সংক্রান্ত তথ্য পাঠানো হয় ইসলামাবাদকে।
১৯৬০ সালে হওয়া সিন্ধু জল চুক্তি অনুযায়ী ভারত পশ্চিমাঞ্চলীয় নদী, সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাবের প্রবাহের তথ্য পাকিস্তানকে দিত। চুক্তির অধীনে ৮০:২০ অনুপাতে জল পেত পাকিস্তান, যা তাদের কৃষি ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু পহেলগাঁও হামলার পর ভারত এই চুক্তি কার্যত স্থগিত করে দেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না।”
এরপর থেকেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহল ভারতের বিরুদ্ধে নানা রকম মন্তব্য করে চলেছে, কখনও যুদ্ধের হুঁশিয়ারি, কখনও আবার ভারতের বাঁধ উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি। আর এদিকে বন্যার প্রকোপে যখন পাকিস্তান বিপর্যস্ত, তখনও দোষারোপের রাজনীতি থামছে না।