ভারতের চারদিনের প্রত্যাঘাতে পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি ছারখার হয়ে গিয়েছে।

ভারত বিরোধী জনসভায় পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও লস্কর প্রধানের ছবির পোস্টার।
শেষ আপডেট: 30 May 2025 11:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তান সরকার ও সেদেশের সেনাবাহিনী এবং চর সংস্থা আইএসআইয়ের (ISI) চাদরের আড়ালে লুকিয়ে থাকা জঙ্গি সংগঠনগুলি ফের ভারত-বিরোধী ধুয়ো তুলছে দেশে-বিদেশে। লস্কর-ই-তোইবা ও জইশ-ই-মহম্মদের সদর কার্যালয় সহ ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ভারতীয় বাহিনী গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর দুটি সংগঠনই নতুন করে ভারত ও হিন্দুবিরোধী জেহাদের ডাক দিচ্ছে। একইসঙ্গে তছনছ করে দেওয়া সংগঠনের তহবিল গোছানোর কাজে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারযুদ্ধে নেমে পড়েছে।
ভারতের চারদিনের প্রত্যাঘাতে পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি ছারখার হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় পাকিস্তান জুড়ে এবং মুসলিম দেশগুলির কাছে জেহাদের কাজে অর্থ সাহায্য চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারের ঝড় তুলে দিয়েছে লস্কর-জইশের ছায়া সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলি। এই কাজে হ্যাকার ভাড়া করে কাজ চালানোর নমুনা সামনে এসেছে। শুধু তাই নয়, দেশের মাটিতে একের পর এক জনসভা করে ভারতের বিরুদ্ধে জেহাদের ডাক দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে প্রচার চালাচ্ছে তারা।
পাকিস্তান যে এই জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে রয়েছে, তার প্রমাণ মিলেছিল জঙ্গি নিকেশের পর তাদের শেষকৃত্যে সেনাবাহিনী শহিদের মর্যাদা দিয়ে যোগদান করায়। প্রতিটি কফিনকে মুড়ে ফেলা হয়েছিল পাক জাতীয় পতাকায়। এবার তথাকথিত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্করের জনসভায় দেখা গিয়েছে মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ সইদ ও পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ছবি। অন্যদিকে, জইশ পাক সেনাবাহিনীকে জয়ী নায়কের মর্যাদা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢেলে প্রচার চালাচ্ছে জেহাদের ডাক দিয়ে।

জইশ-ই-মহম্মদের জেহাদি ডাক
জইশ-ই-মহম্মদ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, এক্স, হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ, চ্যানেল ও ব্লগস্পটে জেহাদি আদর্শের লাগাতার প্রচার শুরু করেছে। সেখানে তারা জেহাদের কাজে চাঁদা চাইছে, ভারতের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণার ডাক দিচ্ছে এবং এই কাজে পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আর্জি জানাচ্ছে। মারকাজ সাঈয়েদনা তামিম ডারি হল জইশের ডিজিটাল প্রচার নেটওয়ার্কের একটি বহুল প্রচারিত ফেসবুক পেজ। সেখানে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের জ্বালাময়ী বক্তৃতা প্রচার করা হয় নিয়মিত। তাতেই ভারতের বিরুদ্ধে জেহাদের ডাক দিয়েছে সংগঠন।
শুধু ভারত-বিরোধী নয়, অপারেশন সিঁদুরের পর দেশের মাদ্রাসা ও মসজিদগুলি সাময়িক বন্ধ করার সিদ্ধান্তে পাকিস্তান সরকারেরও কড়া সমালোচনা করা হচ্ছে। ইন্ডিয়া টুডে-র ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স প্রতিনিধিরা এরকম অন্তত ৩০টি ফেসবুক চ্যানেলকে চিহ্নিত করেছেন। এছাড়াও হোয়াটস অ্যাপ, টেলিগ্রামেও লাগাতার এই প্রচার চালাচ্ছে জইশ। তারা ঘাজোয়া-ই-হিন্দ অথবা ভারতে ইসলামি শাসন প্রবর্তনের অঙ্গীকার করার আহ্বান জানাচ্ছে। পাকিস্তানি ও কাশ্মীরি যুবশ্রেণিকে জেহাদের জন্য জেগে ওঠার ডাক দিয়েছে জইশ।
আগামী অগস্টে বাহাওয়ালপুরে আয়োজিত ধর্মসভায় দলে দলে যোগ দেওয়ার প্রচারে হোর্ডিং লাগিয়েছে জইশ। তাতে মারকাজ সুবান আল্লার ধ্বংসস্তূপের ছবি দিয়ে মসজিদ পুনর্নির্মাণে অর্থ তহবিলে মুক্তহস্তে দান করার প্রচার করছে। ২৫ অগস্ট হতে চলা জেহাদি প্রচার শোনার আর্জি জানানো হয়েছে সকলকে।
লস্কর-ই-তোইবার কর্মকাণ্ড
পহলগামে জঙ্গি হানার অন্যতম চক্রী বলে সন্দেহভাজন লস্কর-ই-তোইবার কমান্ডার সইফুল্লা কাসুরিকে এক জনসভায় দেখা গিয়েছে ২৮ মে। ওইদিন পাকিস্তানের পরমাণু পরীক্ষার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণও দেয় কাসুরি। তাকে ঘিরে পাহারায় ছিল পাকিস্তানের চর সংস্থা আইএসআইয়ের লোকেরা। পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ (PMML) আয়োজিত ওই জনসভায় কিছুদিন ঘাপটি মেরে থাকা সইফুল্লা কাসুরিকে মঞ্চে দেখা যায়। ওই মঞ্চে ছিলেন পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতাও।

ওই জনসভার মূল লক্ষ্যই ছিল সম্পূর্ণত ভারত বিরোধী ঘৃণাভাষণ ও উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কথাবার্তা। উপস্থিতদের মধ্যে ছিল লস্কর প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের ছেলে তালহা সইদও। পাক পাঞ্জাবের কাসুর এলাকায় ওই জনসভায় কাসুরি বলে, পহলগাম জঙ্গি হানার জন্য আমাকে মূল চক্রান্তকারী বলে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। তাই আমার নাম এখন পৃথিবী বিখ্যাত হয়ে গিয়েছে।
জনতার উদ্দেশে লস্কর-ই-তোইবার ডেপুটি প্রধান কাসুরি ওরফে খালিদ নামে পরিচিত জঙ্গি বলে, মুদাস্সির শাহিদের নামে পাক পাঞ্জাবের আল্লা আবাদ শহরে একটি কেন্দ্র, সড়ক এবং হাসপাতাল গড়ে তুলতে হবে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ভারতের অপারেশন সিঁদুর প্রত্যাঘাতে কুখ্যাত জঙ্গি মুদাস্সির শাহিদ খতম হয়।
জনসভায় ‘নারা ই তকবির’ বলে ভাষণ শুরু করে হাফিজের ছেলে তালহা সইদও ভারত বিরোধী ঘৃণাভাষণ দেয়। উল্লেখ্য, ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিদের খাতায় তালহার নাম রয়েছে ৩২ নম্বরে। লস্কর-ই-তোইবার রাজনৈতিক সংগঠন বলে আড়ালে থাকা পিএমএমএলের হয়ে ২০২৪ সালে নির্বাচনের লাহোরের একটি কেন্দ্র থেকে ভোটেও দাঁড়িয়েছিল তালহা। ওই একই সভায় লস্করের সহ প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজা স্লোগান তোলে, কাশ্মীর বনেগা পাকিস্তান, জম্মু বনেগা পাকিস্তান ও পাঞ্জাব বনেগা পাকিস্তান।
প্রসঙ্গত, পিএমএমএল কিছুদিন ধরেই লাহোর, করাচি, ইসলামাবাদ, ফয়জলাবাদ সহ দেশজুড়ে সভা করে চলেছে। সব জায়গাতেই ভারতের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে যাচ্ছে। কারণ, অপারেশন সিঁদুরে লস্কর ও জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান ঘাঁটিগুলি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত। তাদের মূল দাবি হাফিজ সইদের মুক্তি হল, আড়ালে তাদের কর্মসূচি হচ্ছে ভারত বিরোধী জনমত তৈরি।