অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) চলাকালীন মে ২০২৫-এ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া আকাশযুদ্ধের (aerial clashes) সময়ে পাকিস্তান বিমানবাহিনী (Pakistan Air Force) প্রকাশ্যে দাবি করেছিল যে, তারা একাধিক ভারতীয় যুদ্ধবিমান মাটিতে নামিয়েছে। সেই তালিকায় ছিল একটি রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমান, যার টেল নম্বর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল BS-022।

পাকিস্তানের নাকের সামনে ধুলো উড়িয়ে BS-022 সাধারণতন্ত্র দিবসের আকাশে উড়ে অংশ নিল কুচকাওয়াজে। ছবি এআই দিয়ে তৈরি করা।
শেষ আপডেট: 28 January 2026 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের প্রকাশ্যে পাকিস্তানের মিথ্যার বেসাতি। অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) চলাকালীন মে ২০২৫-এ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া আকাশযুদ্ধের (aerial clashes) সময়ে পাকিস্তান বিমানবাহিনী (Pakistan Air Force) প্রকাশ্যে দাবি করেছিল যে, তারা একাধিক ভারতীয় যুদ্ধবিমান মাটিতে নামিয়েছে। সেই তালিকায় ছিল একটি রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমান, যার টেল নম্বর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল BS-022।
কিন্তু ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, সাধারণতন্ত্র দিবসের (Republic Day) কুচকাওয়াজের অংশ হিসেবে ফ্লাইপাস্টে বা বিমান মহড়ায় (flypast) সেই দাবি কার্যত উড়িয়ে দিল ভারত। যেভাবে অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় বিমানবাহিনী (Indian Air Force) পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান নামিয়েছিল, ঠিক সেভাবেই প্রতীকী জবাব দেয় দিল্লি। পাকিস্তানের নাকের সামনে ধুলো উড়িয়ে BS-022 সাধারণতন্ত্র দিবসের আকাশে উড়ে অংশ নিল কুচকাওয়াজে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় (social media) ওই দাবি ব্যাপকভাবে ছড়ালেও, কোনও যাচাইকৃত প্রমাণ, যেমন ধ্বংসাবশেষ (wreckage), রাডার তথ্য (radar logs) বা সরকারি বিবৃতি কখনওই সামনে আসেনি। প্রায় আট মাস পরে, ২০২৬ সালের সাধারণতন্ত্র দিবসের ফ্লাইপাস্টে রাফাল যুদ্ধবিমানগুলি নিখুঁত ফরমেশনে আকাশে উড়ে সেই বিমানের সম্পূর্ণ কার্যক্ষমতা (operational status) প্রমাণ করে দেয়। যে রাফালকে একসময় ‘ভূপাতিত’ বলে দাবি করা হয়েছিল, সেটিই গর্বের সঙ্গে কুচকাওয়াজে অংশ নিয়ে আগের দাবিকে ভুয়ো প্রচারের এক জ্বলন্ত উদাহরণে পরিণত করে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট নিউজ পাকিস্তান (Independent News Pakistan)-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৫ সালের মে মাসের শুরুতে আকাশযুদ্ধে পাকিস্তান বিমানবাহিনী একাধিক ভারতীয় যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে BS-001, BS-021, BS-022 এবং BS-027-এর মতো রাফালও গুলি করে নামিয়েছে। যে যুদ্ধবিমানটিকে পাকিস্তান কার্যত বিমান ‘স্বর্গে পাঠিয়েছে’ বলে দাবি করেছিল, সেটিই কর্তব্যপথের (Kartavya Path) উপর গৌরবের সঙ্গে আকাশে উড়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর নিখুঁত কসরত প্রদর্শন করে।
৭ থেকে ১০ মে ২০২৫-এর মধ্যে পহলগামে (Pahalgam) জঙ্গি হামলার (terror attack) বদলা হিসেবে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারত। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (Pakistan-occupied Kashmir) জঙ্গি পরিকাঠামো (terror infrastructure) এবং শত্রু ঘাঁটিতে দ্রুত ও নির্ভুল আকাশপথে পাল্টা আঘাত (aerial counterstrike)। ভারতের প্রতিরক্ষা শীর্ষকর্তারা প্রকাশ্যে জানান, এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ (S-400 Triumf)-এর মতো অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (air-defence system) বহু পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান এবং একটি বড় নজরদারি বিমানকে (surveillance aircraft) অত্যন্ত দীর্ঘ পাল্লা থেকে গুলি করে নামিয়েছে।
এই অভিযানের গুরুত্ব ও শক্তি সাধারণতন্ত্র দিবসেও তুলে ধরা হয়। সামরিক বিষয়ক দপ্তরের (Department of Military Affairs) ট্যাবলোতে এস-৪০০ ব্যবস্থা বিশেষ স্থান পায়। এর মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, বিমান নামানোর সোশ্যাল মিডিয়ার বড়াইয়ের বিষয় নয়, এটি কাজের করে দেখানোর প্রশ্ন।
দাসোঁ রাফালে (Dassault Rafale) একটি ফরাসি কোম্পানি নির্মিত বিভিন্ন কাজের যুদ্ধবিমান, যা ভারতীয় বিমানবাহিনী ব্যবহার করে। এটি আধুনিক ৪.৫ প্রজন্মের (4.5-generation) বিমান। যা আকাশযুদ্ধ (air-to-air combat), মাটিতে শত্রুঘাঁটি ধ্বংস (ground strike) এবং নজরদারি (reconnaissance)-তে সক্ষম। উন্নত এভিওনিক্স (avionics), রাডার (radar) এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমে (electronic warfare systems) সজ্জিত এই বিমান। BS-022 ভারতীয় বিমানবাহিনীর সেই রাফাল যুদ্ধবিমানগুলির একটি, যাকে ওপেন-সোর্স সামরিক বিমান চলাচল নথিতে সক্রিয় পরিষেবার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর আগে পাকিস্তান বিমানবাহিনী ও কিছু সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন BS-022-সহ একাধিক রাফাল ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ভারতীয় প্রতিরক্ষা আধিকারিকরা (Indian defence officials) এবং দাসোঁ অ্যাভিয়েশন (Dassault Aviation) এই দাবিকে সরাসরি খারিজ করে দেয়। তাদের বক্তব্য, কোনও নিশ্চিত ধ্বংসাবশেষ, রাডার তথ্য বা বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ (credible evidence) কখনওই পাকিস্তান দেখাতে পারেনি।