২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশে মোট ১০.১৩ লক্ষ সরকারি স্কুলের মধ্যে ৫ হাজার ১৪৯টি স্কুলে একজন ছাত্রছাত্রীও ভর্তি হয়নি। এনরোলমেন্ট একেবারে শূন্য।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 21 December 2025 13:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নথিতে তারা সরকারি স্কুল (Government Schools)। ছোট শহর থেকে গ্রাম - সর্বত্রই বিল্ডিং আছে, সাইনবোর্ড ঝুলছে, শিক্ষক নিযুক্ত, বাজেট বরাদ্দও হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই সব স্কুলে নেই কোনও পড়ুয়া (No Students)। সম্প্রতি সংসদে পেশ হওয়া সরকারি তথ্য সামনে আনল দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এক গভীর ও অস্বস্তিকর ছবি।
২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশে মোট ১০.১৩ লক্ষ সরকারি স্কুলের মধ্যে ৫ হাজার ১৪৯টি স্কুলে একজন ছাত্রছাত্রীও ভর্তি হয়নি (Zero Enrolment)। এনরোলমেন্ট একেবারে শূন্য। শুধু তাই নয়, ৬৫ হাজার ৫৪টি স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা ১০ জনেরও কম। নথিতে উঠে এসেছে এমনই তথ্য।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এই ‘ভূতুড়ে’ স্কুলগুলি (Ghost Schools) দেশের সর্বত্র সমানভাবে ছড়িয়ে নেই। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শূন্য পড়ুয়ার প্রায় ৭০ শতাংশ স্কুল রয়েছে মাত্র দু’টি রাজ্যে - পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ও তেলঙ্গানা (Telengana)।
পরিসংখ্যান বলছে, ৫ হাজার ১৪৯টি শূন্য এনরোলমেন্ট স্কুলের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০টি রয়েছে এই দুই রাজ্যেই। জেলা স্তরেও একই ছবি। সারা দেশে প্রায় ১০০টি জেলায় ১০টির বেশি সরকারি স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই। এর মধ্যে তেলঙ্গানার সবকটি (৩৩) জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের ২৩টির মধ্যে ২২টি জেলা এই তালিকায়।
তথ্য বলছে, পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) বর্তমানে ৬ হাজার ৭০৩টি সরকারি স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা ১০ জনের কম বা শূন্য। এই স্কুলগুলিতে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা ২৭ হাজার ৩৪৮। অন্যদিকে তেলঙ্গানায় (Telengana) এমন স্কুলের সংখ্যা ৫ হাজার ২১, যেখানে শিক্ষক রয়েছেন ৪ হাজার ৮৫০ জন। এই সংখ্যা শুধুই বাড়েনি, সমস্যা ক্রমেই গভীর হয়েছে। ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষে দেশে ১০ বা তার কম পড়ুয়ার স্কুল ছিল ৫২ হাজার ৩০৯টি। দু’বছরের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৫ হাজার ৫৪, প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি।
শিক্ষাবিদদের মতে, এটি নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি নয়। বরং পরিকল্পনা, গুণমান ও প্রশাসনিক নজরদারির তিন স্তরের ব্যর্থতার দিকেই ইঙ্গিত করছে এই তথ্য। কোথাও স্কুল আছে কিন্তু পড়ুয়া নেই, আবার কোথাও পড়ুয়া থাকলেও স্কুল দূরে, পরিকাঠামো দুর্বল বা অভিভাবকদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই পরিস্থিতির জন্য শিশু জনসংখ্যা কমে যাওয়াকে দায়ী করা যাচ্ছে না। জনসংখ্যার পরিসংখ্যান বলছে, শিশু সংখ্যা নাটকীয় ভাবে কমেনি। বরং সরকারি স্কুল থেকে পড়ুয়াদের সরে যাওয়ার প্রবণতাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এই ‘ভূতুড়ে স্কুল’ ঘিরে প্রশ্ন উঠছে - তবে কি স্কুলের অবস্থান ভুল? নাকি শিক্ষার মানে আস্থা হারাচ্ছেন অভিভাবকরা? নাকি প্রশাসনিক জড়তাই স্কুলে ভর্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে? সংসদে উঠে আসা তথ্য এই প্রশ্নগুলিকেই তুলে ধরছে।