মাত্র ছয় মাসে বিনিয়োগের নামে প্রতারণার শিকার হয়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। গৃহমন্ত্রকের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বেঙ্গালুরু, দিল্লি-এনসিআর ও হায়দরাবাদে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে। বয়স্করাও রয়েছেন প্রধান টার্গেটের তালিকায়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 October 2025 16:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের প্রধান শহরগুলোতে গত ছয় মাসে ৩০,০০০-এর বেশি মানুষ বিনিয়োগ সংক্রান্ত জালিয়াতির শিকার হয়েছেন, খোয়া গেছে ১,৫০০ কোটিরও বেশি টাকা। এমন তথ্য সম্প্রতি জানিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সাইবার উইং।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রায় ৭৬ শতাংশের বয়স ৩০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। শহরগুলির মধ্যে বেঙ্গালুরু, দিল্লি-এনসিআর এবং হায়দরাবাদ মোট মামলার প্রায় ৬৫ শতাংশের জন্য দায়ী। বেঙ্গালুরু এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ, মোট ক্ষতির প্রায় ২৬.৩৮ শতাংশ এখানকার মানুষজনের সঙ্গেই হয়েছে।
বয়সের পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখা গেছে, বয়স্ক মানুষজনকে আজকাল বেশি টার্গেট করা হচ্ছে এবং সংখ্যাটা দিন দিন বাড়ছে। ৬০ বছরের ওপরের প্রায় ২,৮২৯ জন বা ৮.৬২ শতাংশ মানুষ এই স্ক্যামের শিকার। রিপোর্ট বলছে, জনপ্রতি টাকা খোয়া যাওয়ার পরিমাণ গড়ে ৫১.৩৮ লাখ। দিল্লিতে প্রতি ব্যক্তি গড়ে প্রায় ৮ লাখ হারিয়েছেন।
সাইবার অপরাধীরা প্রধানত ডিজিটাল চ্যানেল ব্যবহার করে এই স্ক্যাম চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মেসেজিং অ্যাপ যেমন টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ প্রায় ২০ শতাংশ মামলার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এগুলোতে গ্রুপ তৈরি করা সহজ এবং এনক্রিপশন থাকায় স্ক্যামারদের কাছে খুবই সহজ।
তুলনামূলকভাবে, পেশাদার নেটওয়ার্ক যেমন লিঙ্কডইন ও টুইটার খুব কম ব্যবহৃত হচ্ছে, কেবল ০.৩১ শতাংশ ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া “আদার” নামে শ্রেণিবিভাগ করা প্ল্যাটফর্মগুলো সবচেয়ে বড়, ৪১.৮৭ শতাংশ। এর মানে, স্ক্যামাররা বিভিন্ন অপরিচিত প্ল্যাটফর্মকেও ব্যবহার করছেন। যা সম্পর্কে তেমন আইডিয়াই নেই।
এই রিপোর্ট আসার পরই বিশেষজ্ঞরা বয়স্কদের এবং টেকনিক্যাল বিষয়ে কম পারদর্শী লোকজনকে সতর্ক থাকতে বলছেন। প্রয়োজনে বিশ্বাসযোগ্য লোক এবং প্রশাসনের সাহায্য দ্রুত নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছেন।