পাকভূমিতে আশ্রয় নেওয়া এই ব্যক্তিরা পুঞ্চ ও রাজৌরি এলাকায় জঙ্গিদের ‘গাইড’ হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়া-সহ নানা উপায়ে স্থানীয় যুবকদের মধ্যে চরমপন্থী ভাবধারা ছড়িয়ে তাদের জঙ্গি সংগঠনে টানার চেষ্টা চলছে।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 5 January 2026 15:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন পাকিস্তান বা পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে সীমান্ত পেরিয়ে কে বা কারা ঢুকছে, তার নজর রাখত সেনা। কিন্তু, জঙ্গিপনার তালিম নিতে ৩০০ জনের চম্পটের পর টনক নড়ল ভারতের। জম্মু–কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) পুঞ্চ ও রাজৌরি সীমান্ত জেলায় নতুন করে নিরাপত্তা সংস্থা যে কারণে কড়া নজরদাড়ি চালাচ্ছে। সূত্রের খবর, এই দুই জেলা থেকে পাকিস্তান বা পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) চলে যাওয়া ৩০০-রও বেশি ব্যক্তি বর্তমানে গোয়েন্দা সংস্থার স্ক্যানারে (Scanner) রয়েছে। অভিযোগ, সীমান্তের ওপার থেকে বসেই এরা মাদক-সন্ত্রাস, অস্ত্র পাচার ও জঙ্গি কার্যকলাপে মদত জোগাচ্ছে।
নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকভূমিতে (Pakistan) আশ্রয় নেওয়া এই ব্যক্তিরা পুঞ্চ ও রাজৌরি এলাকায় জঙ্গিদের ‘গাইড’ হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়া-সহ নানা উপায়ে স্থানীয় যুবকদের মধ্যে চরমপন্থী ভাবধারা ছড়িয়ে তাদের জঙ্গি সংগঠনে টানার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই কয়েক জন যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টাও হয়েছে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ।
এই তালিকাভুক্ত অধিকাংশই পুঞ্চ জেলার সুরানকোট, মেন্ধার, মানসি গুরসাই এবং সাওজিয়ান এলাকার বাসিন্দা। নিরাপত্তা বাহিনী ওই সব ব্যক্তির একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও জব্দ করার মতো ব্যবস্থা।
সাম্প্রতিক কালে পুঞ্চ পুলিশ পাকভিত্তিক জঙ্গি হ্যান্ডলার রফিক নাই ওরফে সুলতানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। মেন্ধারের নার গ্রামে অবস্থিত চার মারলা কৃষিজমি জব্দ করা হয়েছে। রফিক নাই একাধিক গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত এবং পুঞ্চ–রাজৌরি এলাকায় মাদক ও অস্ত্র পাচার, প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পুনরুজ্জীবনের কাজে সক্রিয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এখানেই থামেনি অভিযান। আদালতের নির্দেশ মেনে পুঞ্চ পুলিশের তরফে মাণ্ডি এলাকায় পাকভিত্তিক আর এক জঙ্গি হ্যান্ডলার জামাল লোন ওরফে জামালার ৬ কানাল ১৩ মারলা জমিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জামাল লোন ঘোষিত পলাতক অপরাধী এবং পিওকে-তে গিয়ে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত বলে অভিযোগ।
নিরাপত্তা সূত্র জানাচ্ছে, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে পুঞ্চ ও রাজৌরি থেকে বহু মানুষ আর্থিক সুযোগের আশায় সীমান্ত পেরিয়ে পিওকে-তে গিয়েছিলেন। সে সময় ওপার বাংলায় মসজিদ থেকে কাজ ও ভাতার প্রলোভন দেখানো হত। পরে অনেকেই বুঝতে পারেন, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই তাঁদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। ধীরে ধীরে তাঁরা জঙ্গি পথপ্রদর্শক, মাদক পাচারকারী এবং ভারত-বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকের কথায়, “এই ধরনের উপাদানের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। ভবিষ্যতে আরও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।”