ভোর ৬টার ই-মেলে চাকরি শেষের বার্তা, ওরাকলের ছাঁটাইয়ে চাঞ্চল্য আইটি দুনিয়ায়। আরও ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা, AI ও স্লোডাউনের চাপে অনিশ্চয়তা বাড়ছে কর্মীদের মধ্যে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 1 April 2026 17:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'আজই আপনার শেষ কাজের দিন।' বুধবার ঘুম থেকে উঠে এমনই মেলে দিন শুরু করলেন ওরাকেলের প্রায় ১২ হাজার কর্মী। আরও এক দফায় ছাঁটাই হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। সংস্থার ভিতরের খবর বলছে, আশঙ্কা নিশ্চিত হতে পারে কিছুদিনের মধ্যেই। ফলে মাথায় বাজ পড়েছে বহু কর্মীর।
সংস্থার তরফে ‘সংগঠনগত পরিবর্তনে’র (Organisational Change) কথা বলা হলেও, কর্মীদের কাছে এটা ছাঁটাই ছাড়া আর কিছু না। ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার সৌরভ মুখার্জির মতে, গত ২০ বছর ধরে দ্রুত বাড়তে থাকা এই সেক্টর এখন ‘স্ট্রাকচারাল স্লোডাউনে’র (Structural Slowdown) মুখে। ২০০৫ থেকে ২০২০— এই সময়কালে যেখানে আয় ও কর্মীসংখ্যা বছরে গড়ে ১৫% হারে বাড়ত, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫-৬%-এ। কোভিডের (Covid) পর থেকেই নিয়োগে গতি কমেছে।
তার উপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence বা AI) পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। নীতি আয়োগের (NITI Aayog) ২০২৫ সালের রিপোর্ট বলছে, ২০৩১ সালের মধ্যে আইটি পরিষেবা ও কল সেন্টারের প্রায় ২০% চাকরি অটোমেশনের (Automation) প্রভাবে ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এই প্রভাব সবচেয়ে আগে চোখে পড়ছে বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) রিয়েল এস্টেট (Real Estate) বাজারে। আইটি কর্মীরা বড় অঙ্কের বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। কেউ কম দামের বাড়ি কেনার দিকে ঝুঁকছেন, কেউ আবার সম্পূর্ণ থামিয়ে দিচ্ছেন বিনিয়োগ (Investment)। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা চাহিদা কমে যাওয়া নয়, বরং কেনার ধরণের (Buying Behaviour) বদল।
রিয়েল এস্টেট পরামর্শদাতা বিশাল ভার্গবের কথায়, 'ছাঁটাইয়ের পরিবেশে দ্বৈত প্রভাব পড়ে— যাঁরা চাকরি হারান তাঁরা ঋণ (Loan) শোধে সমস্যায় পড়েন, আর বাকিরা ভয়ে নতুন বিনিয়োগ থেকে পিছিয়ে যান।' এক্ষেত্রে দুটোই দেখা যাচ্ছে।
আর এর প্রতিফলন লক্ষ্যণীয় শেয়ার বাজারেও। নিফটি আইটি (Nifty IT Index) ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৫% নেমে গিয়েছে। আইসিআইসিআই ডাইরেক্ট (ICICI Direct) জানিয়েছে, সেক্টরটি ‘ডিফ্লেশনারি ফেজে’ (Deflationary Phase) ঢুকছে, যেখানে অটোমেশন মানুষের কাজ কমিয়ে দিচ্ছে এবং আয়ের উপর চাপ ফেলছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে আশার আলোও আছে এক্ষেত্রে। একই রিপোর্ট বলছে, এআই-নির্ভর পরিষেবা (AI-led Services) ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন বাজার তৈরি করতে পারে। যদিও সিট্রিনি রিসার্চের (Citrini Research)-এর একটি রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে, দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল না মিলাতে পারলে ২০২৮-এর মধ্যে বড়সড় আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে টিসিএস, ইনফোসিস ও উইপ্রো-র মতো সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে।
সব মিলিয়ে, ছাঁটাই, কম নিয়োগ আর বদলে যাওয়া বাজার— এই তিন সংকেত এখন একসঙ্গে ইঙ্গিত দিচ্ছে, আইটি সেক্টরের এই বদল আর শুধু প্রযুক্তির গণ্ডিতে আটকে নেই, এর প্রভাব ছড়াতে শুরু করেছে গোটা অর্থনীতিতেই।