সংস্থার তরফে কর্মীদের পাঠানো একটি ইমেলে বলা হয়েছে, সংস্থার অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সেই কারণেই কাজের ধরণ সরলীকরণ বা “স্ট্রিমলাইন” করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর তার জেরেই বহু কর্মীর বর্তমান পদ “অপ্রয়োজনীয়” হয়ে পড়ছে।

মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা 'ওরাকল'
শেষ আপডেট: 1 April 2026 12:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা 'ওরাকল' (Oracle)-এ ব্যাপক ছাঁটাইয়ের খবর সামনে এল। সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করেছে বলে জানা যাচ্ছে (Oracle job cuts 2026), যার মধ্যে শুধু ভারতেই প্রভাবিত হয়েছেন প্রায় ১২,০০০ কর্মী (Oracle layoffs India)।
শুধু তাই নয়, আগামী এক মাসের মধ্যেই আরও এক দফা ছাঁটাই (IT sector layoffs) হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সংস্থার এই সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত দুই কর্মী (Oracle employees India), যাঁদের মধ্যে একজন এইচআর বিভাগের, এই তথ্য জানিয়েছেন।
‘সংগঠনের পরিবর্তন’-এর যুক্তি
এই বহুজাতিক সংস্থার সদর দফতর রয়েছে অস্টিনে। সংস্থার তরফে কর্মীদের পাঠানো একটি ইমেলে বলা হয়েছে, সংস্থার অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সেই কারণেই কাজের ধরণ সরলীকরণ বা “স্ট্রিমলাইন” করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর তার জেরেই বহু কর্মীর বর্তমান পদ “অপ্রয়োজনীয়” হয়ে পড়ছে।
ভারতে বড় প্রভাব
রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ওরাকলের মোট কর্মীসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। অর্থাৎ ছাঁটাইয়ের ফলে দেশের একটি বড় অংশের কর্মীই সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সংস্থাটির পূর্ণকালীন কর্মীসংখ্যা ছিল প্রায় ১ লক্ষ ৬২ হাজার।
যদিও এই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি ওরাকল।
ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ নিয়ে কী জানা যাচ্ছে
ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
ভারতে কর্মরতদের ক্ষেত্রে,
এর পাশাপাশি, অতিরিক্ত হিসেবে দু’মাসের বেতন দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে, এই প্যাকেজ শুধুমাত্র সেই কর্মীরাই পাবেন, যাঁরা স্বেচ্ছায় এবং “বন্ধুত্বপূর্ণ” ভাব বজায় রেখেই সংস্থা ছাড়বেন।
কর্মীদের অভিযোগ ও ভিতরের তথ্য
ওরাকলের এক প্রাক্তন কর্মী জানিয়েছেন, তিনি গত সেপ্টেম্বরে ছাঁটাই হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ভারতে সংস্থার ১৬ ঘণ্টার কাজের সময়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাঁকে চাকরি হারাতে হয়।
তিনি আরও বলেন, তিনি সংস্থার বর্তমান কর্মী ও এইচআর বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, আমেরিকায় কর্মরত বহু ভারতীয় কর্মীও এই ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, আমেরিকায় স্থানীয় নাগরিকদের ছাঁটাই নিয়ে আইন অনেক বেশি কঠোর। ফলে তুলনামূলকভাবে বিদেশি কর্মীদের উপরই বেশি প্রভাব পড়ছে।
তবে এই প্রথম নয়, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা সামনে এসেছে। তবে ওরাকলের এই বিপুল পরিমাণ ছাঁটাই নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষত, আগামী এক মাসের মধ্যে আরও এক দফা ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা থাকায় কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।