কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে শুধু দক্ষতা নয়, প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সংস্থার মতো এবার সেই পথেই এগলো অ্যাক্সেঞ্চার-ও।

শেষ আপডেট: 20 February 2026 18:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্রুত বদলে দিচ্ছে কাজের ধরন। আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার (AI at workplace) জন্য এবার কর্মীদের উপর সরাসরি চাপ বাড়াল অ্যাক্সেঞ্চার (Accenture)। সংস্থার বার্তা স্পষ্ট, এআই ব্যবহার করুন, নইলে পদোন্নতির আশা কম (Accenture AI Promotion Policy)।
Financial Times-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যাক্সেঞ্চার তাদের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর ও সিনিয়র ম্যানেজারদের ইমেলের মাধ্যমে জানিয়েছে, লিডারশিপ পদে উঠতে হলে নিয়মিত এআই টুল ব্যবহার (AI tool usage mandate at workplace) করতেই হবে। অর্থাৎ, যারা এআই ব্যবহার করবেন না, তাঁদের অ্যাপ্রাইজাল পাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত কমে যাবে।
AI-র দিকে ঝোঁক, ১১ হাজার কর্মী ছাঁটাই
অ্যাক্সেঞ্চার দ্রুত এআই-কেন্দ্রিক কাজের দিকে ঝুঁকছে, সেই প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত। ইতিমধ্যেই সংস্থার সিইও জুলি সুইট ইন্ডিয়া এআই ইম্প্যাক্ট সামিট (India AI Impact Summit)-এ বলেন, “কোম্পানিগুলোকে নিজেদের কাজের ধরন নতুন করে ভাবতে হবে। গত কয়েক দশকের প্রক্রিয়া বদলে ফেলতে হবে এবং কর্মীদের নতুনভাবে গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করতে হবে।”
এর আগে সংস্থা ১১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল, যাঁদের এআই-এর সঙ্গে খাপ খাওয়ানো সম্ভব নয় বলে মনে করা হয়েছিল। গত তিন বছরে শুধুমাত্র সেভারেন্স প্যাকেজেই প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে তারা।
শুধু অ্যাক্সেঞ্চার নয়, পুরো ইন্ডাস্ট্রির নজর এআই-এর উপর
এই প্রবণতা কিন্তু একা অ্যাক্সেঞ্চারের নয়। ২০২৫ সালের জুনে মাইক্রোসফট (Microsoft) জানিয়ে দেয়, এআই ব্যবহার এখন আর অপশনাল নয়। সত্য নাদেলা (Satya Nadella)-ও সিনিয়রদের সতর্ক করেন, এআই পরিকল্পনায় বিশ্বাস না থাকলে সংস্থা ছাড়ার কথা ভাবতে হবে। গুগল (Google)-এর সিইও সুন্দর পিচাই (Sundar Pichai) আগেই বলেছিলেন, এআই ব্যবহার না করলে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। মেটা (Meta)-ও কর্মীদের এআই ব্যবহারের উপর নজরদারি শুরু করেছে।
অর্থাৎ, পুরো প্রযুক্তি শিল্পই এখন এআই-নির্ভর প্রোডাক্টিভিটির দিকে এগোচ্ছে।
গত এক বছরে অ্যামাজন (Amazon), টিসিএস (TCS), ইনফোসিস (Infosys), অ্যাক্সেঞ্চার (Accenture)-সহ একাধিক সংস্থায় এক লক্ষেরও বেশি আইটি কর্মী ছাঁটাই হয়েছেন। সংস্থাগুলোর ধারণা এআই ব্যবহার করলে প্রোডাক্টিভিটির বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীর সংখ্যা কমানো যাবে। আর সেই লক্ষ্য পূরণে কর্মীদের এআই ব্যবহারে বাধ্যতামূলক করে তোলার দিকেই এগোচ্ছে তারা।
কীভাবে নজরদারি করবে অ্যাক্সেঞ্চার?
অ্যাক্সেঞ্চার কর্মীদের AI ব্যবহারের উপর সরাসরি নজর রাখবে বলে জানা গেছে। সংস্থার নিজস্ব AI প্ল্যাটফর্ম AI Refinery-তে লগ-ইন এবং তা ব্যবহার কতটা নিয়মিত - এসবই ট্র্যাক করা হবে। এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি হয়েছে NVIDIA-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে।
জুলি সুইট আগে জানিয়েছিলেন, AI Refinery এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা সংস্থাগুলিকে তাদের কাজের ধরন নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করবে।
সবার জন্য কি বাধ্যতামূলক?
তবে এই নিয়ম এখনও সবার জন্য নয়। ইউরোপের ১২টি দেশের কর্মীরা এবং মার্কিন সরকারি চুক্তি সংক্রান্ত বিভাগকে এই সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে, মূলত প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম ও চুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে।
এছাড়া, ভবিষ্যতে এন্ট্রি-লেভেল কর্মীদের জন্যও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এআই এখন আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়, এটি বর্তমানের বাস্তবতা। কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে শুধু দক্ষতা নয়, প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।