উত্তরপ্রদেশে আত্মসমর্পণ করেন সোনম। অভিযোগ, তিনি ও প্রেমিক রাজ কুশওয়া মিলে তিনজন খুনিকে ভাড়া করেছিলেন — আকাশ, আনন্দ এবং বিকাশ। তাঁদের দিয়ে রাজাকে খুন করান সোনম।

শেষ আপডেট: 10 June 2025 19:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ড ধীরে ধীরে দেশের অন্যতম রহস্যজনক খুনের ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। মেঘালয়ের পাহাড়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে স্বামীকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী সোনম রঘুবংশী এবং তাঁর প্রেমিক রাজ কুশওয়ার বিরুদ্ধে। খুনের ছক কষার কথা স্বীকারও করেন সোনম। এবার সেই খুনের রহস্যভেদে মেঘালয় পুলিশ চালাচ্ছে ‘অপারেশন হানিমুন।’
খুনের পর কোথায় কোথায় ঘুরলেন সোনম?
২৩ মে, মেঘালয়ের নঙরিয়াট গ্রামের ‘শিপারা হোমস্টে’ থেকে বেরিয়ে যান যুগল। এরপরই তাঁদের খোঁজ মিলছিল না। ২ জুন, একটি গভীর খাদ থেকে উদ্ধার হয় রাজার দেহ।
এর এক সপ্তাহ পর উত্তরপ্রদেশে আত্মসমর্পণ করেন সোনম। অভিযোগ, তিনি ও প্রেমিক রাজ কুশওয়া মিলে তিনজন খুনিকে ভাড়া করেছিলেন — আকাশ, আনন্দ এবং বিকাশ। তাঁদের দিয়ে রাজাকে খুন করান সোনম।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মে মাসের ১১ তারিখ বিয়ে করেন রাজা-সোনম। কয়েক দিনের মধ্যেই খুনের ছক কষেন সোনম ও রাজ। মে-র ২০ তারিখ তাঁরা মধুচন্দ্রিমার জন্য মেঘালয়ে রওনা দেন। মে-র ২১ তারিখ গুয়াহাটি পৌঁছয় ভাড়াটে খুনির দল। সেখান থেকে ২২ তারিখ শিলং গিয়ে পৌঁছন তাঁরা। ২৩ তারিখ ঘটে খুন।
খুনের দিন সোনম রাজার সঙ্গে একটি পাহাড়ি জায়গায় যান, ছবি তোলার নাম করে। পিছন থেকে তাঁদের অনুসরণ করেন তিন খুনি। তাঁরা প্রথমে রাজার সঙ্গে হিন্দিতে কথাও বলেন। কিছুক্ষণ পর সোনম ‘ক্লান্ত’ বলে নিজেকে একটু পেছনে সরিয়ে নেন। তখন পাঁচ জন একেবারে নির্জন জায়গায় পৌঁছে যান, তখন সোনম চিৎকার করে বলে ওঠেন, 'মেরে দাও।' এরপরই হয় খুন।
এই গোটা ঘটনা ঘটেছে সোনমের চোখের সামনে হয়েছে বলে দাবি করছেন তদন্তকারীরা।
খুনের পর চার জন অভিযুক্ত একসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১১ কিমি দূরে গিয়ে জড়ো হন। সেখান থেকে সোনম চলে যান গুয়াহাটি, তারপর ট্রেনে করে ইন্দোর। ২৫ মে পৌঁছে যান প্রেমিক রাজ কুশওয়ার কাছে, যিনি আগেই সেখানে একটি ভাড়া ঘর ঠিক করে রেখেছিলেন। যদিও রাজ নিজে ছিলেন অন্য একটি হোটেলে।
কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন, তাতে করে সোনম যান উত্তরপ্রদেশে। দু’জনে সব সময় ফোনে যোগাযোগ রেখেছিলেন। ৮ জুন, শনিবার রাতে গাজিপুরের এক ধাবায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হন ২৪ বছরের সোনম। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় গাজিপুর মেডিক্যাল কলেজে। সেখানেই তিনি আত্মসমর্পণ করেন পুলিশের কাছে। এরপর হেফাজতে নেওয়া হয়।