সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই ওমলেটের দাম অনলাইনে ইউপিআই (UPI) পেমেন্টের মাধ্যমে মেটানো হয়েছিল। এই ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরেই পুলিশ অভিযুক্তের পরিচয় জানতে পারে।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 7 January 2026 17:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক টুকরো ওমলেট, এআই (AI) এবং একটি ডিজিটাল লেনদেন (UPI payment) - এই তিনটি ছোট ছোট সূত্র জুড়েই খুলে গেল এক নৃশংস ‘ব্লাইন্ড মার্ডার’-এর জট (blind murder case)। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে (Gwalior blind murder case) গত সপ্তাহে এক মহিলার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল পুলিশ (omelette solved a blind murder case MP)।
গোয়ালিয়রের গোলা কা মন্দির থানা এলাকার জঙ্গল থেকে ২৯ ডিসেম্বর ওই মহিলার দেহ উদ্ধার হয়। দেহ উদ্ধারের সময় দেখা যায়, একটি ভারী পাথর দিয়ে তাঁর মুখ থেঁতলে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে গোটা মুখই প্রায় সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। এই কারণেই প্রথম দিকে মৃতার পরিচয় শনাক্ত করতে প্রবল সমস্যায় পড়ে পুলিশ।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে শেষ পর্যন্ত এআই প্রযুক্তির সাহায্যে মৃতার একটি সম্ভাব্য স্কেচ তৈরি করা হয়। এই স্কেচ তৈরির পর টিকমগড় পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়।
কীভাবে খুলল এই ‘ব্লাইন্ড কেস’-এর রহস্য?
গোয়ালিয়রের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (SSP) ধর্মবীর সিং এই মামলাকে “অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, একাধিক ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র একত্র করেই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য ভেদ করা সম্ভব হয়েছে।
সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, “এটা ছিল একেবারে ব্লাইন্ড কেস। মৃত মহিলার কোনও পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রাথমিকভাবে এটাকে অত্যন্ত নৃশংস হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছিল। তদন্তের সময় দেহ পরীক্ষা করে একটি ছোট ওমলেটের টুকরো পাওয়া যায়।”
এই ওমলেটের সূত্র ধরেই তদন্ত নতুন দিকে মোড় নেয়। পুলিশ ওই জায়গা থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে থাকা সমস্ত খাবারের দোকানে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, কিছুক্ষণ আগে এক মহিলা দু’জন পুরুষের সঙ্গে ওমলেট খেয়েছিলেন।
এরপর ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, ওই ওমলেটের দাম অনলাইনে ইউপিআই (UPI) পেমেন্টের মাধ্যমে মেটানো হয়েছিল। এই ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরেই পুলিশ ধীরে ধীরে অভিযুক্তের পরিচয় জানতে পারে।
শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে গোয়ালিয়রের বাসিন্দা সচিন সেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
মৃতা কে ছিলেন? কী ছিল খুনের কারণ?
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতা মহিলা টিকমগড় জেলার বাসিন্দা। তিনি আগে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন। তবে প্রায় এক সপ্তাহ আগে সচিন সেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং এরপর তিনি অভিযুক্তের সঙ্গেই থাকতে শুরু করেন।
SSP ধর্মবীর সিংয়ের দাবি, অভিযুক্ত সচিন সেন সন্দেহ করতেন যে ওই মহিলার একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এই সন্দেহ ও মানসিক ক্ষোভ থেকেই তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, “অভিযুক্ত ওই মহিলাকে মূল রাস্তার কাছেই একটি জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং সেখানে একটি ভারী পাথর দিয়ে তাঁর মাথা থেঁতলে দেয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি জ্যাকেট-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে।”
এই ঘটনার তদন্তে এআই দিয়ে স্কেচ তৈরি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, মাঠপর্যায়ের তথ্য এবং ফরেনসিক প্রমাণ - সবকিছু একসঙ্গে কাজে লাগানো হয়েছে। এর ফলেই মৃতার পরিচয় নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান পুলিশ আধিকারিক।