স্পিকারের কথায়, সংসদের কাজকর্ম পরিচালনার সময় তিনি কখনও পক্ষপাত করেননি। বরং শৃঙ্খলা, ভারসাম্য ও নিয়ম মেনে অধিবেশন চালানোই তাঁর লক্ষ্য ছিল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, লোকসভায় আলোচনার সময় মাইক্রোফোন নিয়ন্ত্রণ করে সাংসদদের বক্তব্য থামিয়ে দেওয়া হয়।

ওম বিড়লা
শেষ আপডেট: 12 March 2026 13:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব (No Confidence Motion) শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি। দীর্ঘ বিতর্ক ও তুমুল হট্টগোলের পর ধ্বনি ভোটে সেই প্রস্তাব খারিজ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার আবার স্পিকারের আসনে ফিরে প্রথম বক্তব্যেই নিজের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন ওম বিড়লা (Om Birla)। তিনি দাবি করেন, লোকসভা পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি সব সময়ই নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছেন এবং বিধি মেনেই প্রত্যেক সাংসদকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
স্পিকারের কথায়, সংসদের কাজকর্ম পরিচালনার সময় তিনি কখনও পক্ষপাত করেননি। বরং শৃঙ্খলা, ভারসাম্য ও নিয়ম মেনে অধিবেশন চালানোই তাঁর লক্ষ্য ছিল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, লোকসভায় আলোচনার সময় মাইক্রোফোন নিয়ন্ত্রণ করে সাংসদদের বক্তব্য থামিয়ে দেওয়া হয়। সেই অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দেন স্পিকার। তাঁর কথায়, সাংসদদের মাইক্রোফোন চালু বা বন্ধ করার মতো কোনও সুইচ তাঁর হাতে নেই।
বুধবার এই অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে লোকসভায় দীর্ঘ সময় ধরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে বিতর্ক চলে। বিরোধী দলগুলির সাংসদরা একাধিক অভিযোগ তুলে স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ধ্বনি ভোটে সেই প্রস্তাব খারিজ হয়ে যায়।
দিনভর সংসদে বিক্ষোভ ও স্লোগান চলতে থাকে। বিরোধী শিবিরের সাংসদরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলে প্রতিবাদ শুরু করেন। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সাংসদ জগদম্বিকা পাল ঘোষণা করেন যে স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি।
প্রতিবাদের জেরে লোকসভার কাজ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিরোধী সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকায় স্বাভাবিক আলোচনাও সম্ভব হচ্ছিল না। বারবার তাঁদের নিজেদের আসনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান অধিবেশন পরিচালনায় থাকা সাংসদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রস্তাবটি ভোটে তোলার জন্য সদস্যদের আসনে ফিরে যাওয়া জরুরি।
তবে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। হট্টগোলের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত কক্ষের মতামত জানতে চাওয়া হয় এবং ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হয়ে যায়। এরপর দিনের বাকি সময়ের জন্য অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে সংসদের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।