নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছে, গত ১ জুলাই কলেজের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন নির্যাতিতা। তারপর থেকেই তাঁকে নানাভাবে মানসিক চাপের মধ্যে ফেলা হয়।
_0.jpg.webp)
ওড়িশার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ
শেষ আপডেট: 14 July 2025 17:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশায় কলেজ চত্বরেই আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এক ২২ বছরের ছাত্রী (Odisha Student set herself on fire)। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছিল, তাঁর শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। সংকটজনক অবস্থায় ভেন্টিলেশনে চিকিৎসা চলছে, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তরুণী। মেয়ের এই পরিণতি দেখে ভেঙে পড়েছেন তাঁর বাবা। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, 'আজ হাসপাতালে গিয়ে ওকে দেখলাম। আমি আমার মেয়েকে চিনতেই পারলাম না।'
তরুণী ওড়িশার ফকির মোহন কলেজের ইন্টিগ্রেটেড বিএড (B.Ed) কোর্সের পড়ুয়া। অভিযোগ, বিভাগীয় প্রধান প্রধান সমীর কুমার সাহু তাঁকে অশ্লীল প্রস্তাব দিতেন ছাত্রী অভিযোগ জানালে, তাঁর পরীক্ষার নম্বর কেটে দেওয়ার ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করার হুমকিও দেওয়া হয়। অভিযুক্ত অধ্যাপক এখন পুলিশি হেফাজতে।
নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছে, গত ১ জুলাই কলেজের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন নির্যাতিতা। তারপর থেকেই তাঁকে নানাভাবে মানসিক চাপের মধ্যে ফেলা হয়। তাঁর বাবা অভিযোগ করেছেন, 'অভিযোগ না তুলে নিলে আমার বিরুদ্ধেই নাকি এফআইআর হবে, এমন হুমকিও দেওয়া হয় কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে।'
নির্যাতিতার ভাইয়ের দাবি, 'ঘটনার দিন সকালে তাঁর দিদি আবার একই অভিযোগে প্রিন্সিপালের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। প্রিন্সিপালের কাছ থেকে একটি বিবৃতি নিয়ে থানায় অভিযোগ জানানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর। ওইদিন সকাল ১১টা নাগাদ শেষবার ফোনে কথা হয়। দুপুর ১টা নাগাদ খবর আসে, কলেজ চত্বরে নিজের গায়েই আগুন লাগিয়েছেন তাঁর দিদি।
এক ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ওই ছাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে কলেজের করিডরে ছুটছেন। এক যুবক তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলেও তাঁর নিজের শার্টে আগুন ধরে যাওয়ায় পিছিয়ে যান। আরেক ছাত্র তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেও ৭০ শতাংশ দগ্ধ হন। দু’জনেই এখন ভুবনেশ্বরের এইমস হাসপাতালে ভর্তি। তরুণীর অবস্থা এখনও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। রবিবার ভুবনেশ্বর এইমসে যান ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। তিনি জানান, 'তরুণীর চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দিল্লি বা অন্য কোনও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হবে।'