বোয়িংয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি ২৪,০০০ ঘণ্টা উড়ানের পরই এই অংশটি বদলানোর নিয়ম রয়েছে।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 14 July 2025 14:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১২ জুন এয়ার ইন্ডিয়ার যে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২৬০ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়, সেই বিমানের ককপিটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ — থ্রটল কন্ট্রোল মডিউল (TCM) — দু’বার বদলানো হয়েছিল, প্রথমবার ২০১৯ সালে এবং দ্বিতীয়বার ২০২৩ সালে।
বোয়িংয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি ২৪,০০০ ঘণ্টা উড়ানের পরই এই অংশটি বদলানোর নিয়ম রয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও, দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উঠে আসছে এই ইউনিটেই থাকা ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের আচমকা চালু হয়ে যাওয়ার প্রশ্ন।
ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে, ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে টেক-অফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানের দুটি ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ নিজে থেকেই ‘CUTOFF’ অবস্থায় চলে যায়। ফলে মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় দুই ইঞ্জিন, এবং বিমানটি আচমকাই উচ্চতা হারিয়ে একটি হাসপাতালের মেসের ওপর আছড়ে পড়ে। প্রাণ হারান সমস্ত যাত্রী ও কর্মী মিলিয়ে ২৬০ জন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো(AAIB)। রিপোর্ট অনুযায়ী, যদিও TCM দু’বার বদলানো হয়েছিল নিয়ম মেনে, তার সঙ্গে কোনও ত্রুটির সম্পর্ক নেই বলে জানানো হয়েছে।
তবে AAIB-র এই পর্যবেক্ষণের পরে, ১১ জুলাই মার্কিন ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) এক Continued Airworthiness Notification জারি করে জানায়, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের ফুয়েল সুইচের ডিজাইনে কোনও সুরক্ষার খামতি নেই, এবং আপাতত কোনও Airworthiness Directive প্রয়োজন নেই। বোয়িং-ও FAA-র অবস্থানকে সমর্থন করে সমস্ত ৭৮৭ অপারেটরদের উদ্দেশে একটি Multi-Operator Message পাঠিয়েছে।
তবে, ২০১৮ সালে FAA একটি অ্যাডভাইসরি জারি করেছিল যাতে বলা হয়েছিল, বিমানের ফুয়েল কাট-অফ সুইচের লকিং মেকানিজম পরীক্ষা করে দেখা উচিত যাতে তা অনিচ্ছাকৃতভাবে চালু না হয়ে পড়ে। যদিও এই পরামর্শ বাধ্যতামূলক ছিল না, ফলে এয়ার ইন্ডিয়ার ওই ইন্সপেকশন করেনি।
ক্র্যাশ-সাইট থেকে উদ্ধার হওয়া ককপিট ভয়েস রেকর্ডিং অনুযায়ী, টেক-অফের ঠিক পরে দুটি ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ একে অপরের পরপর মাত্র এক সেকেন্ডের ব্যবধানে ‘CUTOFF’ হয়ে যায়। এক পাইলট বিস্মিত হয়ে বলেন, “তুমি ফুয়েল বন্ধ করে দিলে কেন?” জবাবে অপর পাইলট জানান, “আমি কিছু করিনি।”
AAIB জানিয়েছে, কিছু সময়ের জন্য ইঞ্জিন দুটি ফের চালু হয়েও আবার বন্ধ হয়ে যায়, যদিও সুইচগুলি পরে ‘RUN’ অবস্থায় ফেরানো হয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে খুব দেরি হয়ে গিয়েছে। বিমান যথেষ্ট উচ্চতায় পৌঁছতে পারেনি, এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুর্ঘটনায় ভেঙে পড়ে।
প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, যদিও ২০১৮-র ঐচ্ছিক পরিদর্শন এয়ার ইন্ডিয়া করেনি, তারা সমস্ত বাধ্যতামূলক Airworthiness Directives এবং Service Bulletins-এর প্রতি সম্পূর্ণরূপে সম্মত ছিল। বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের নথিপত্রে TCM বদলানোর বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।
এই দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে কিছু প্রশ্ন সামনে এলেও, ‘ফুয়েল কাট-অফ’ সুইচ হঠাৎ চালু হয়ে যাওয়া— দুর্ঘটনার মূল কারণ কিনা, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। সম্পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট আগামী মাসগুলিতে প্রকাশ পাবে বলে জানানো হয়েছে।