পারাপারের কোনও সেতু না থাকার কারণে প্রায় ১০০টি পরিবারের মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা ও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

শেষ আপডেট: 26 October 2025 21:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুকসমান জল নদীতে, আশা শুধু একটা দড়ি। পারাপার করতে তার ওপরেই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে একটা গোটা গ্রামের মানুষের 'স্বাভাবিক' জীবনযাত্রা।
দড়ি ধরে প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন নদী পার হচ্ছেন ওড়িশার কন্ধামাল জেলার কাদামাহা গ্রামের বাসিন্দারা। কারণ, এলাকায় কোনও সেতু বা সঠিক সংযোগপথ নেই।
বালিগুড়া ব্লকের এই গ্রাম দিয়ে বয়ে চলা বুঢ়া নদী পেরোতে হয় স্থানীয়দের। এই গ্রামের একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বুকসমান জলের মধ্যে দিয়ে নদী পার হচ্ছেন গ্রামের মানুষজন। কেবল একটি দড়ি তাদের ভরসা, যাতে জলের তোড়ে ভেসে না যান তাঁরা।
আরও ভয়ঙ্কর দৃশ্য ধরা পড়েছে ভিডিওতে। প্রাপ্তবয়স্করা ছোট শিশুদের হাঁড়ির ভেতরে বসিয়ে এক দিক থেকে অন্য দিকে প্রায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
পারাপারের কোনও সেতু না থাকার কারণে প্রায় ১০০টি পরিবারের মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা ও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ভিডিওতে এও দেখা গিয়েছে যে, ইউনিফর্ম পরা বাচ্চারা ভিজে ভিজে নদী পেরিয়ে স্কুলে যাচ্ছে।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা, কিন্তু প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের আর্তির কোনও জবাব দেননি।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এই আগেও চলতি বছরের জুলাই মাস নাগাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এক মিনিটের সেই ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা খরস্রোতা নদীর উপরে থাকা পাথর টপকে টপকে এপার থেকে ওপারে যাচ্ছে। মাঝে কোনও সেতু নেই, যার সাহায্যে তারা সহজেই যাতায়াত করতে পারবে। বরং জীবনের বাজি রেখেই রোজের এই যাতায়াত তারা করছে।
শুশু তাই নয়, সেই ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল, 'ব্রিজ বানালে ভোট মেলে না, মন্দির বানালেই ভোট আসে!' আর ওই ভিডিও ঘিরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয় বিতর্ক। প্রশ্ন ওঠে এটাই কি দেশের বাস্তব ছবি? উন্নয়ন নয়, মন্দির নিয়েই কি চলবে রাজনীতি?
কিন্তু দেশের বিভিন্ন জায়গায় কমবেশি চিত্রটা যে একই রকম তা সোশ্যাল মিডিয়ায় একপ্রকার স্পষ্ট, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা।