অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীদের মধ্যে বজরং দলের কয়েকজন সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসী ছিলেন।

শেষ আপডেট: 22 January 2026 21:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশার ঢেঙ্কানল (Odisha Dhenkanal) জেলার পারজং জেলায় খ্রিস্টান ধর্মকেন্দ্রিক এক প্রার্থনা সভা (Prayer Meeting) ঘিরে এক পাদ্রীকে মারধর ও অপমানের অভিযোগ (Odisha pastor assault allegation) উঠেছে। ঘটনার পর তাঁর স্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ৪ জানুয়ারি। অভিযোগ অনুযায়ী, পাদ্রী বিপিন বিহারী নায়েক তাঁর আত্মীয় কৃষ্ণ নায়েকের বাড়িতে প্রার্থনা সভায় (Dhenkanal prayer meeting incident) ছিলেন, যেটার আয়োজনও তিনিই করেছিলেন। সেখানে তাঁর স্ত্রী বন্দনা নায়েক-সহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
বন্দনার অভিযোগ, ১৫–২০ জনের একটি দল বাঁশের লাঠি নিয়ে বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তাঁর স্বামীকে মারধর শুরু করে। টেনে-হিঁচড়ে বাইরে আনা হয়, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করা হয় এবং চড়-থাপ্পড় মারা হয়। তাঁর মুখে সিঁদুর মাখানো হয় এবং গলায় জুতোর মালা পরানো হয় বলেও অভিযোগ।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীদের মধ্যে বজরং দলের কয়েকজন সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসী ছিলেন। তাঁদের দাবি, পাদ্রী ধর্মান্তরের (Conversion Allegation) সঙ্গে জড়িত। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা তাঁকে গোটা গ্রামে ঘোরানো হয়। স্থানীয় একটি হনুমান মন্দিরে নিয়ে গিয়ে তাঁর মাথা মুড়িয়ে ন্যাড়া করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগের একটি অংশে দাবি করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে মন্দিরের সামনে নতজানু হতে বাধ্য করা হয় এবং নর্দমার জল ও গোবর মেশানো জল পান করানো হয় বলেও অভিযোগ। মন্দিরে একটি রডের সঙ্গে তাঁর হাত বেঁধে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় এবং মারধর করা হয়, এমনটাই অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এই ঘটনার পর বন্দনা নায়েক পারজং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঢেঙ্কানলের পুলিশ সুপার অভিনব সোনকার জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং চারজনকে আটক করা হয়েছে।
পারজং গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ই সংখ্যাগরিষ্ঠ, খ্রিস্টান পরিবার খুবই কম। বন্দনা নায়েক যদিও ধর্মান্তরের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।