গতি কমিয়ে তিনি বাসটিকে একেবারে সুরক্ষিত জায়গায় থামান। এক মুহূর্তের জন্যও যাত্রীদের বিপদে ফেলেননি তিনি। গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাঁর এই সিদ্ধান্তই বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে সকলকে বাঁচায়।

প্রতীকী ছবি (এআই নির্মিত)
শেষ আপডেট: 20 November 2025 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দায়িত্ববোধ কখনও কখনও মানুষের জীবনের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে। ঠিক এমনই এক উদাহরণ সৃষ্টি করলেন ওড়িশা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের (OSRTC) বাসচালক পি সাই কৃষ্ণা। চলন্ত বাসে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack) হলেও তিনি নিজের যন্ত্রণার পরোয়া না করেই বাসটিকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে গিয়ে থামিয়ে দেন (Odisha Bus Driver Death)। আর তাঁর সেই মুহূর্তের সিদ্ধান্তই রক্ষা করে অন্তত ৩০ জন যাত্রীর প্রাণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন আর বাঁচাতে পারলেন না। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার, করাপুট-সুনাবেডা রুটে। বাসটি অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) বিজয়নগরম থেকে ওড়িশার মালকানগিরির দিকে যাচ্ছিল। বাসে তখন ৩০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুমুরিপুটের কাছে পৌঁছতেই চালক হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন। প্রথমে তিনি অতটা গুরুত্ব দেননি। পারেননি। কিন্তু ব্যথা বাড়তে থাকলে তিনি বুঝতে পারেন পরিস্থিতি গুরুতর।
এমন অবস্থায় সাই কৃষ্ণা চালকের আসনেই থেকেও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখেন বাসটিকে। ধীরে ধীরে গতি কমিয়ে তিনি বাসটিকে একেবারে সুরক্ষিত জায়গায় থামান। এক মুহূর্তের জন্যও যাত্রীদের বিপদে ফেলেননি তিনি। গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাঁর এই সিদ্ধান্তই বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে সকলকে বাঁচায়।
বাসটি কোরাপুটে পৌঁছনোর পর স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে এসএলএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পরে সহচালক বাসটির দায়িত্ব নেন। তিনি যাত্রীদের মালকানগিরি পর্যন্ত নিরাপদে পৌঁছে দেন বলে জানা গেছে।
৪৪ বছরের সাই কৃষ্ণা বিজয়নগরম ডিপোতে চাকরি করতেন। পরিবারে তাঁর স্ত্রী এবং দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। সহকর্মী ও যাত্রীদের মতে, কৃষ্ণা দায়িত্ববান এবং শান্ত স্বভাবের ছিলেন। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি নিয়ম মেনে গাড়ি চালাতে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু আচমকা হার্ট অ্যাটাক তাঁর জীবন কেড়ে নিল।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল, শেষ মুহূর্তেও কর্তব্যবোধ ভুলে যাননি সাই কৃষ্ণা। নিজের জীবন বিপন্ন জেনেও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে গেছেন। কৃষ্ণার এই ত্যাগ ও পেশাদারিত্ব এখন ওড়িশাজুড়ে প্রশংসিত।