হাইকোর্ট এর আগেও বিভিন্ন লিভ-ইন সম্পর্কের বিষয়ে ভিন্ন রায় দিয়েছিল। এক মামলায় বিচারক জানিয়েছিলেন, বিবাহিত ব্যক্তি অন্য কারও সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্ক শুরু করতে পারবেন না, যদি না তিনি তাঁর স্বামী/স্ত্রীর থেকে আইনিভাবে বিচ্ছেদ করেন।
.jpg.webp)
প্রতীকী ছবি (এআই নির্মিত)
শেষ আপডেট: 30 March 2026 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেমের পথে ধর্ম (Interfaith Relation) আর সামাজিক প্রথা বাধা দিতে পারবে না, এমনটাই জানাল এলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad High Court)। দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, যারা নিজের ইচ্ছেয় একসঙ্গে সুখে আছে, তাঁদের ধর্মকে কোনও বিচারের মাপকাঠি হিসেবে দেখা উচিত নয়। আদালত স্পষ্ট করে বলেছে, সংবিধান তাঁদের এই অন্তঃধর্মীয় সম্পর্কের পক্ষেইর রয়েছে এবং কোনওভাবেই তাদের মৌলিক অধিকার ভঙ্গ করা যাবে না।
বেশ কিছু সময় ধরে লিভ ইন সম্পর্কে (Live in Relationship) ছিলেন উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) যুগল। একজন হিন্দু (Hindu) ও আরেকজন মুসলিম (Muslim), তাই দুই পরিবারেরই আপত্তি ছিল। পরিস্থিতির কাছে বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা। এই মামলাতেই আদালত জানায়, যুগলকে তাদের ধর্ম অনুযায়ী হিন্দু বা মুসলিম হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং তাঁরা হলেন দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি, যারা নিজের ইচ্ছেয় থাকতে চাইছে।
যুগল আদালতে জানিয়েছিল, নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন, পুলিশে জানালেও কোনও সাড়া মেলেনি। শুনানি শেষে বিচারক বললেন, “প্রতিটি মানুষের অধিকার আছে তার পছন্দের সঙ্গীর সঙ্গে জীবন কাটানোর। কেউ ধর্মের দোহাই দিয়ে এই অধিকার ছিনিয়ে নিতে পারবে না।” রায়ে আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, দেশের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও স্বাধীনতা রক্ষা করা। শুধু ধর্ম ভিন্ন হওয়া দিয়ে কেউ তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারবে না।
এর আগে এলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad High Court) বিভিন্ন লিভ-ইন সম্পর্কের বিষয়ে ভিন্ন রায় দিয়েছিল। এক মামলায় বিচারক জানিয়েছিলেন, বিবাহিত ব্যক্তি অন্য কারও সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্ক শুরু করতে পারবেন না, যদি না তিনি তাঁর স্বামী/স্ত্রীর থেকে আইনিভাবে বিচ্ছেদ করেন। অন্য একটি মামলায় হাইকোর্ট বলেছিল, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও মহিলার সম্মতিপূর্ণ লিভ-ইন সম্পর্ক আইনত অপরাধ নয়, এবং সামাজিক মতামত বা নৈতিকতা এই রায়ে প্রভাব ফেলতে পারবে না।