বৃদ্ধ দম্পতির ছেলে, পেশায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের (Uttar Pradesh Police) একজন কনস্টেবল ছিলেন। ২০১৬ সালে তাঁর বিয়ে হয়। ২০২১ সালে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হলে তাঁর স্ত্রী পুলিশের চাকরি-সহ কিছু সরকারি সুবিধা পান।

ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 29 March 2026 12:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়সের ভারে নুয়ে পড়া দু’টি মানুষ। একমাত্র ছেলে ছিল তাঁদের শেষ ভরসা। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর অসহয়তা গ্রাস করেছিল বৃদ্ধ দম্পতিকে। আশা করেছিলেন, যে বউমাকে (Daughter-In-Law) এতদিন মেয়ের মতো আগলে রেখেছিলেন, হয়তো ছেলের শূন্যতা কাটিয়ে অন্তত তিনিই একটু সামলাবেন। কিন্তু সেই আশাও আইনের দরজায় এসে ভেঙে গেল। আদালত স্পষ্ট করে দিল (High Court's Big Ruling), মমতা থাকতে পারে, দয়া থাকতে পারে, কিন্তু আইনের চোখে নৈতিকতা দিয়ে কারও ওপর দায় চাপানো যায় না।
বৃদ্ধ দম্পতির ছেলে, পেশায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের (Uttar Pradesh Police) একজন কনস্টেবল ছিলেন। ২০১৬ সালে তাঁর বিয়ে হয়। ২০২১ সালে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হলে তাঁর স্ত্রী পুলিশের চাকরি-সহ কিছু সরকারি সুবিধা পান। এরপর শ্বশুর-শাশুড়ি দাবি করেন, তাঁদের ছেলে যেহেতু পরিবারের প্রধান রোজগেরে ছিলেন, তাই এবার তাঁর অবর্তমানে বউমা ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবেন। নৈতিকতার খাতিরেই বউমার ওপর দায় আছে বলে তাঁরা আদালতে যুক্তি দেন।
কিন্তু আগের বছর আগস্টে ফ্যামিলি কোর্ট (Family Court) তাঁদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে তাঁরা সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাইকোর্টের (Allahabad High Court) দ্বারস্থ হন। তাঁদের আইনজীবীর দাবি ছিল, দম্পতি বৃদ্ধ, নিরক্ষর এবং সম্পূর্ণরূপে ছেলের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তাই বউমা যেহেতু আয় করেন, তিনি ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। বউমার পক্ষের আইনজীবী পাল্টা যুক্তি দেন, ফ্যামিলি কোর্ট আইনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তাই হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
রায় দেওয়ার সময় আদালতও পরিষ্কার জানায়, দম্পতি যে আইনের অধীনে ভরণপোষণ দাবি করেছেন, তাতে ‘স্ত্রী, সন্তান এবং বাবা-মা’-কেই ভরণপোষণ দাবি করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। শ্বশুর-শাশুড়ির নাম এই তালিকায় নেই। তাই আইনগতভাবে বউমার ওপর দায় চাপানো যাবে না। রায়ে বিচারপতি মদন পাল সিং বলেন, “নীতি-নৈতিকতার দিক থেকে যতই যুক্তি থাকুক না কেন, আইনে স্পষ্ট নির্দেশ না থাকলে তা আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে আরোপ করা যায় না।”
আদালত জানায়, বউমা স্বামীর মৃত্যুর পর কম্প্যাশনেট গ্রাউন্ডে চাকরি পেয়েছেন, এমন কোনও প্রমাণ নেই। তাই তাঁকে শ্বশুর-শাশুড়ির ভরণপোষণের (Maintenance) আলাদা দায়ে বাধ্য করা যায় না। শেষ পর্যন্ত হাই কোর্ট পরিবার আদালতের আগের রায়ই বহাল রাখে এবং বৃদ্ধ দম্পতির আবেদন খারিজ করে দেয়।