এই রায় ভবিষ্যতের অনেক মামলার ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে কাজ করতে পারে। আদালত জানিয়ে দিল, ভরণপোষণ অধিকার হলেও তা অপব্যবহারের সুযোগ কখনওই দেওয়া যাবে না।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 January 2026 16:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রীর কাজকর্ম বা অবহেলার কারণে যদি স্বামীর উপার্জনে বাধা আসে, তবে তিনি বিবাহবিচ্ছেদের পর ভরণপোষণ দাবি করতে পারবেন না (Divorce Case Judgement)। একটি বিতর্কিত ঘটনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad High Court)।
মামলাটি কুশীনগরের এক দম্পতিকে নিয়ে। স্বামী বেদ প্রকাশ সিং পেশায় একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। অভিযোগ, একদিন তাঁর ক্লিনিকে স্ত্রীর ভাই ও বাবা এসে অশান্তি করে, সেইসময়েই বচসা চলাকালীনই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ওই গুলির তাঁর মেরুদণ্ডে আটকে যায়। চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচার করলে প্যারালাইসিসের ঝুঁকি রয়েছে (Wife obstructing income)। বর্তমানে তিনি ঠিকমতো বসতেও পারেন না, কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই অবস্থাতেও স্ত্রী ভরণপোষণের দাবি করেন।
২০২৫ সালের ৭ মে কুশীনগর ফ্যামিলি কোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ (High Court maintenance order), স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা থেকেই স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে তিনি উপার্জন করার মতো অবস্থায় নেই। আর তাঁর এই অক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে তাঁর স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের অপরাধমূলক কাজের।
এরপরই মামলাকারী এলাহাবাদ হাইকোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। কিন্তু বিচারপতি লক্ষ্মীকান্ত শুক্লা ফ্যামিলি কোর্টের রায়ই বহাল রাখেন। আদালত জানায়, স্বামীর উপার্জনক্ষমতা যে নষ্ট হয়েছে, তা নিয়ে কোনও বিতর্কের জায়গা নেই। তাঁর মেরুদণ্ডে এখনও গুলির টুকরো রয়েছে, ফলে চিকিৎসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বিচারপতি আরও বলেন, ভারতীয় সমাজে সাধারণত স্বামীই স্ত্রীর দেখাশোনা করবেন, এটাই প্রচলিত ধারণা। তবে আইনে কোথাও বলা নেই যে শুধু স্বামীকেই রোজগার করতে হবে। কিন্তু এই মামলায় বিশেষ পরিস্থিতি রয়েছে, যেখানে স্ত্রীর পরিবারই স্বামীর উপার্জনক্ষমতা নষ্ট করার জন্য দায়ী।
হাইকোর্ট সাফ জানায়, “যদি স্ত্রী নিজের কাজ অথবা অবহেলার ফলে স্বামীকে উপার্জনে অক্ষম করে তোলেন, তবে সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন না।”
হাইকোর্ট আরও বলে, ন্যায়বিচার মানে শুধু আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়, বাস্তবের পরিস্থিতিকেও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হয়। এখানে স্বামী নিজে কোনও ভুল করেননি বরং স্ত্রীর পরিবারের অপরাধের শিকার হয়েছেন তিনি। তাই ভরণপোষণ দিতে বাধ্য করা অন্যায্য হবে।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এই রায় ভবিষ্যতের অনেক মামলার ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে কাজ করতে পারে। আদালত জানিয়ে দিল, ভরণপোষণ অধিকার হলেও তা অপব্যবহারের সুযোগ কখনওই দেওয়া যাবে না। স্বামীর উপার্জনক্ষমতা যদি স্ত্রী বা তাঁর পরিবারই নষ্ট করে দেয়, তাহলে স্ত্রী সেই পরিস্থিতিতে সুবিধা নিতে পারেন না।