পুলিশের অনুমান, আমিরের মৃত্যু ২০১৫ বা তার কিছু আগে হয়েছে। কারণ, তাঁর ফোনে সর্বশেষ কলের রেকর্ডও সেই সময়ের।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 July 2025 12:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হায়দরাবাদের (Hyderabad) নামপল্লি এলাকার ফাঁকা বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি (Skeleton) সম্ভবত ১০ বছর আগে নিখোঁজ আমির খানের বলে মনে করছে পুলিশ। মঙ্গলবার এমনই জানিয়েছে তদন্তকারী আধিকারিকরা। তাঁরা মনে করছেন, ১০ বছর আগে এই বাড়িতেই মৃত্যু হয়েছিল আমিরের। কিন্তু কেউ খোঁজ না নেওয়ায় তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে কেউ জানতেই পারেননি।
ওই বাড়িটির মালিক মুনির খান নামে এক ব্যক্তি, যাঁর ১০ জন সন্তান রয়েছে। এলাকাবাসীদের দাবি, বাড়িটি গত সাত বছর ধরে ফাঁকা পড়ে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মুনির খানের চতুর্থ সন্তান আমির। বাকি ভাইবোনেরা অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন। সোমবার এক স্থানীয় যুবক ক্রিকেট বল খুঁজতে গিয়ে ওই বাড়ির ভিতর ঢুকে কঙ্কালটি দেখতে পান এবং ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ ওই ঘর থেকে একটি পুরনো নোকিয়া ফোন ও বাতিল হয়ে যাওয়া টাকা উদ্ধার করেছে। ফোনটি অনেকদিন বন্ধ ছিল। সারিয়ে ফের চালু করার পর দেখা যায়, ২০১৫ সালে ৮৪টি মিসড কলের রেকর্ড রয়েছে।
হায়দরাবাদের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ (এসিপি) কিশান কুমার জানান, সমস্ত তথ্য মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি আমির খানের দেহাবশেষ। তাঁর বয়স সম্ভবত ৫০-এর কাছাকাছি ছিল। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পুলিশ আধিকারিক। এসিপির কথায়, “কোনও আঘাতের চিহ্ন বা রক্তের দাগ পাওয়া যায়নি। মনে হচ্ছে, স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়েছে।"
পাশাপাশি, মৃতের ভাই শাদাব খান পুলিশকে জানিয়েছেন, কঙ্কালের পাশে পাওয়া একটি আঙটির মাধ্যমে তিনি তাঁর দাদাকে শনাক্ত করেছেন। সেই সঙ্গে মৃতদেহের সঙ্গে পাওয়া হাফপ্যান্টও আমির খানের বলে নিশ্চিত করেছেন শাদাব।
পুলিশের অনুমান, আমিরের মৃত্যু ২০১৫ বা তার কিছু আগে হয়েছে। কারণ, তাঁর ফোনে সর্বশেষ কলের রেকর্ডও সেই সময়ের। এছাড়া, বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া বাতিল ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের ভিত্তিতেও পুলিশ মনে করছে, ২০১৬-র নোট বাতিলের আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
এছাড়া, বাড়ির দরজা অনেক দিন ধরে বন্ধ থাকায় স্থানীয়দেরও কেউ খোঁজ নেয়নি বলে জানিয়েছেন এসিপি। তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কেউ খোঁজ না নেওয়াটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আত্মীয়রা দেখতেও আসেননি।”
এ ঘটনায় সোমবারই ঘটনাস্থলে গিয়েছে পুলিশের বিশেষ দল CLUES। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে তারা। মৃতদেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য, যাতে সঠিক পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা যায়।