নয়ডায় পণের দাবিতে নিক্কিকে আগুনে পুড়িয়ে খুনের (Noida Dowry Death) অভিযোগ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। পালাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত (cops shoot dowry death accused in leg) অভিযুক্ত বিপিন।

আহত বিপিন।
শেষ আপডেট: 24 August 2025 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রেটার নয়ডায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার ভয়ঙ্কর ঘটনায় তোলপাড় সারা দেশে। পণের দাবি পূরণ না হওয়ায় নিক্কি ভাটিকে স্বামী বিপিন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন নৃশংসভাবে পিটিয়ে, শেষে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। সেই ঝড় আরও বাড়িয়ে দিল বিপিনের পালানোর চেষ্টা ও তার পায়ে গুলি করে তাকে ধরার ঘটনা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী বিপিন ভাটিকে গ্রেফতার করা হলেও, রবিবার দুপুরে সিরসা চৌরাস্তার কাছে পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে সে। তদন্তে সহযোগিতার নামে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বাজার এলাকায়।
জানা গেছে, নিক্কিকে পোড়ানোর আগে যে দাহ্য পদার্থ ঢালা হয়েছিল, সেই 'থিনার' কেনার বিষয়েই প্রমাণ সংগ্রহের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিপিনকে। অভিযোগ, সেখানেই কড়া পুলিশি নজরদারির মধ্যেই এক অফিসারের কাছ থেকে পিস্তল কেড়ে নিয়ে দৌড় দেয় বিপিন। বারবার সতর্ক করার পরেও থামেনি। অবশেষে বাধ্য হয়ে পুলিশ গুলি চালায়। বিপিনের পায়ে গুলি লাগে। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বিপিন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে তার বাবা-মা এবং ভাই এখনও পলাতক। নিকির বোন কাঞ্চন, যাঁর বিয়ে হয়েছে বিপিনের ভাই রোহিতেরই সঙ্গে, তিনিই প্রথম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগে সরাসরি বিপিন এবং শাশুড়ি দায়া ভাটির নাম উঠে আসে। পুলিশের তৎপরতায় ইতিমধ্যেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তরল ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রতিবেশী ও নিকির বোন কাঞ্চনের অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে বিপিন ও তার মা দয়া মিলে নিক্কিকে ভয়ঙ্করভাবে মারধর করে। এরপর নিক্কির শরীরে কোনও দাহ্য তরল ঢেলে দেওয়া হয় এবং লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ভয়ানক দৃশ্য দেখেছে তাদের ৬ বছরের ছোট্ট ছেলেও। সে কাঁদতে কাঁদতে বলেছে, “মায়ের গায়ে কিছু ঢালল, চড় মারল, তারপর আগুন ধরিয়ে দিল।”
নিক্কির অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার দৃশ্যও সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গুরুতর আহত অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছেন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে, যেখানে সেদিন রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিক্কির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের সময় স্বামীর পরিবারের চাহিদা মতো স্করপিও গাড়ি, নগদ টাকা, এমনকি পরবর্তীতে দাবি করা বুলেট বাইকও দেওয়া হয়েছিল। তবুও থামেনি নির্যাতন। সম্প্রতি নিক্কির বাবা একটি মার্সিডিজ গাড়ি কিনেছিলেন। সেই গাড়িটিই চাইছিল বিপিন। ওই বিলাসবহুল গাড়ি না মেলায় নিক্কিকে বারবার মারধর করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
মেয়ের মৃত্যুতে বিধ্বস্ত বাবা এনকাউন্টারের খবর পাওয়ার পরে বলেছেন, 'অপরাধীরাই সব সময় পালাতে চায়, আর বিপিনও তাই করেছে। পুলিশ সঠিক কাজ করেছে। তবে শুধু বিপিন নয়, বাকিদেরও দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। প্রয়োজনে এনকাউন্টার করা হোক। আমরা চাই, এই পরিবারকে ধ্বংস করতে বুলডোজার চালানো হোক। না হলে আমরা অনশনে বসব।”