শিশুটির বাবা-মা আবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চান। দেখা যায়, পরিচারিকা শিশুর মুখে আঘাত করছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে ফেলে দিচ্ছে। ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, সে চিৎকার করে কাঁদছে।

বাচ্চাটির গায়ে কামড়ের দাগ ও সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া দৃশ্য
শেষ আপডেট: 11 August 2025 10:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়ডার এক আবাসনের ডে-কেয়ার সেন্টারে দেড় বছরের শিশু-কন্যার উপর অকথ্য নির্যাতনের অভিযোগ। এক পরিচারিকাকে আটক করেছে পুলিশ। শিশুর উরুতে কামড়ের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে, অভিযুক্ত পরিচারিকা শিশুর মুখে চড় মারছে এবং ইচ্ছে করে মাটিতে ফেলে দিচ্ছে। ঘটনার পর গোটা আবাসন আতঙ্কিত।
ঘটনাটি নয়ডার সেক্টর ১৩৭-এ অবস্থিত ‘প্যারাস টিয়েরিয়া’ আবাসনের। বাসিন্দাদের দ্বারা পরিচালিত এই ডে-কেয়ারে অনেক কর্মরত বাবা-মা সকালে বাচ্চাকে রেখে যান, ফেরার পথে ঘরে নিয়ে যান। গত ৪ অগস্ট এই ভয়াবহ ঘটনা হয়। শিশুটির বাবা-মা প্রথমে মেয়ের উরুতে দাগ দেখে ভেবেছিলেন অ্যালার্জি হয়েছে। পরে ডে-কেয়ারের শিক্ষকরা বিষয়টি নজরে আনেন। শিশুকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ডাক্তার জানান, এগুলি কামড়ের চিহ্ন।
এর পর বাবা-মা আবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চান। দেখা যায়, পরিচারিকা শিশুর মুখে আঘাত করছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে ফেলে দিচ্ছে। ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, শিশুটি চিৎকার করে কাঁদছে।
আক্রান্তর বাবা সন্দীপ জানান, ২১ মে থেকে তাঁরা প্রতিদিন মাত্র দু'ঘণ্টার জন্য মেয়েকে ওই ডে-কেয়ারে পাঠাচ্ছিলেন। তাঁদের বলা হয়েছিল, তিন জন শিক্ষক থাকবেন শিশুর দেখাশোনার জন্য। কিন্তু বাস্তবে জানতেনই না যে শিশুটি পরিচারিকার হাতে থাকবে। প্রতি দু'ঘণ্টার জন্য তাঁরা ২,৫০০ টাকা দিচ্ছিলেন। সন্দীপের দাবি, আরও একটি পরিবার জানিয়েছে, তাঁদের সন্তানও ওই ডে-কেয়ারে একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং তারাও পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে চলেছেন।
বাবা-মায়ের অভিযোগ, ঘটনার সময় ডে-কেয়ারের মালিক কোনও হস্তক্ষেপ করেননি। বরং মালিক ও পরিচারিকা উল্টে তাঁদেরই গালিগালাজ করেন ও হুমকি দেন। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুর মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়েছে এবং অভিযুক্ত পরিচারিকা, যিনি নাবালিকা, আটক করা হয়েছে। ডে-কেয়ারের লাইসেন্স ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সন্দীপের আর্জি, 'ডে-কেয়ারের মালিক ও পরিচারিকার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে আর কোনও শিশুর সঙ্গে এমন না হয় ভবিষ্যতে।'