চমকপ্রদ তথ্যটি উঠে এসেছে বিজেপিশাসিত মধ্যপ্রদেশ থেকে। বিরোধী কংগ্রেস দলের বিধায়ক বিক্রান্ত ভুরিয়ার এক প্রশ্নের জবাবে বিধানসভায় সরকার অপুষ্টি দূরীকরণে দিনপ্রতি বরাদ্দের কথা জানানোর পরেই পিলে চমকে গিয়েছে সকলের।

এই ইস্যুতে গোপূজনে ব্যস্ত বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিরোধীরা।
শেষ আপডেট: 7 August 2025 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপুষ্টির শিকার শিশুদের জন্য সরকার দিনে ৮ থেকে ১২ টাকা খরচ করে। অথচ, সেই সরকারই গোখাদ্যের জন্য দিনপ্রতি বরাদ্দ করেছে ৪০ টাকা। এই চমকপ্রদ তথ্যটি উঠে এসেছে বিজেপিশাসিত মধ্যপ্রদেশ থেকে। বিরোধী কংগ্রেস দলের বিধায়ক বিক্রান্ত ভুরিয়ার এক প্রশ্নের জবাবে বিধানসভায় সরকার অপুষ্টি দূরীকরণে দিনপ্রতি বরাদ্দের কথা জানানোর পরেই পিলে চমকে গিয়েছে সকলের।
এই ইস্যুতে গোপূজনে ব্যস্ত বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিরোধীরা। অপুষ্টির বিভিন্ন স্তর অনুযায়ী শিশুপ্রতি দিনে ৮ থেকে ১২ টাকা বরাদ্দ রয়েছে রাজ্যে। বিধানসভাতেই সরকার পরিসংখ্যান দিয়ে এই হিসাব তুলে ধরেছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের বিধায়ক ভুরিয়ার এক প্রশ্নের জবাবে নারী ও শিশুকল্যাণ দফতর দিনপ্রতি বরাদ্দের হিসাব পেশ করে। এ নিয়ে কংগ্রেস সরকারকে তুলোধনা করে বলেছে, এই টাকায় কীভাবে অপুষ্টি দূর করা সম্ভব!
সরকারি তথ্য বলছে, রাজ্যে বর্তমানে অপুষ্টির শিকার ১ লক্ষ ৩৬ হাজার শিশু। এর মধ্যে ২৯,৮৩০ শিশু ভয়ঙ্করভাবে অপুষ্টির শিকার। ১.০৬ লক্ষ শিশু মধ্যমানের অপুষ্টিতে ভুগছে। রাজ্যের অপুষ্টির হার বর্তমানে ৭.৭৯ শতাংশ। যেখানে অপুষ্টির জাতীয় গড় হল ৫.৪০ শতাংশ। অর্থাৎ জাতীয় গড় হারের থেকেও উপরে রয়েছে বিজেপির মধ্যপ্রদেশ।
ভুরিয়া বিধানসভায় বলেন, অপুষ্টিতে ভোগা বাচ্চাদের জন্য সরকার দিনে ৮-১২ টাকা খরচ করে। সেখানে দিনপ্রতি গোখাদ্যের বরাদ্দ রয়েছে ৪০ টাকা। দুধের দাম ৭০ টাকা লিটার। একজন সরকারি আমলা একটি বৈঠকের জন্য ভাজাভুজি ও শুকনো ফলেই খরচ করেন হাজার হাজার টাকা। কিন্তু, হাড়ের গায়ে চামড়া লেগে থাকা বাচ্চাদের জন্য সরকার মাত্র ১২ টাকা বরাদ্দ করে রেখেছে।
মধ্যপ্রদেশের আদিবাসী অধ্যুষিত শেওপুর, ধর, খারগোনে, বরওয়ানি, ছিন্দওয়ারা ও বালাঘাট এলাকায় অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। কিছু জেলায় চারটির মধ্যে একটি শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে। শেওপুরের এক বছরের কার্তিক নামে একটি বাচ্চাকে তার ঠাকুমা অপুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিলেন। তার শরীরের চামড়ার উপর দিয়ে ভিতরের অস্থি-পাঁজর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল। একইভাবে ভিখাপুর গ্রামের গৌরব ও সৌরভ নামে ৬ মাসের দুই যমজ শিশুকেও এই কেন্দ্রে ভর্তি করতে হয়েছে একই কারণে। রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী নির্মলা ভুরিয়াও মেনে নিয়েছেন অপুষ্টি প্রতিরোধে তেমন কোনও বরাদ্দ নেই। আমরা কেন্দ্রের কাছে আরও অর্থ সাহায্যের আর্জি জানিয়েছি। অন্য রাজ্যগুলিও অপুষ্টি দূরীকরণে অনুদান বৃদ্ধির আবেদন করেছে বলে জানান মন্ত্রী।