এই লেখক-লেখিকা ও বইগুলি সম্পর্কে অভিযোগ, এগুলিতে মিথ্যা বা অপব্যাখ্যা করা হয়েছে রাজ্য সম্পর্কে এবং জঙ্গিপনাকে গৌরবান্বিত করে দেখানো হয়েছে। অন্য প্রখ্যাত লেখকদের মধ্যে রয়েছে মৌলানা মৌদাদি, এজি নুরানি, ভিক্টোরিয়া স্খোফিল্ড ও ডেভিড দেবদাস।

সুমন্ত্র বসু, অরুন্ধতী রায় ও সুগত বসু। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 7 August 2025 13:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রখ্যাত লেখিকা অরুন্ধতী রায়ের বই সহ ২৫টি বইকে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করল জম্মু-কাশ্মীর সরকার। এই লেখক-লেখিকা ও বইগুলি সম্পর্কে অভিযোগ, এগুলিতে মিথ্যা বা অপব্যাখ্যা করা হয়েছে রাজ্য সম্পর্কে এবং জঙ্গিপনাকে গৌরবান্বিত করে দেখানো হয়েছে। অন্য প্রখ্যাত লেখকদের মধ্যে রয়েছে মৌলানা মৌদাদি, এজি নুরানি, ভিক্টোরিয়া স্খোফিল্ড ও ডেভিড দেবদাস।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে এক নির্দেশে বলা হয়েছে, কিছু সাহিত্যকর্ম জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গে মিথ্যা ব্যাখ্যা খাড়া করছে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদকে প্রশ্রয়দানকারী মতপ্রকাশ করছে। সরকারের কাছে এ ব্যাপারে খবর এসে পৌঁছেছে। তদন্ত করে এবং প্রামাণ্য গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত প্রমাণের উপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে সরকার। দেখা গিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের যুব সমাজের মধ্যে হিংসা ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে উৎসাহ জোগাতে ঐতিহাসিক কিংবা রাজনৈতিক ভাষ্যের আড়ালে সাহিত্যকর্মের নামে মিথ্যা বক্তব্য ও বিচ্ছিন্নতাবাদের বিষ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে।
এই সাহিত্যকর্ম বলে ব্যাখ্যাত বইগুলি যুবসমাজকে বিপথে পরিচালিত করছে এবং সন্ত্রাসবাদকে গৌরবের বলে দেখাচ্ছে। যাকে ভারতের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক কাজে প্ররোচনামূলক বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার। নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, সাহিত্য যুবসমাজের মনের অবস্থানের পরিবর্তন যথেষ্ট শক্তিশালী মাধ্যম। যাতে তাঁদের মনে অভিযোগ-নালিশ-বঞ্চনার ক্ষোভ ফুসে উঠতে পারে। এর ফলে কাশ্মীরি যুবসমাজ হিংসাত্মক প্রতিশোধ ও জঙ্গিপনাকে নায়কোচিত গৌরব বলে ভাবতে শুরু করতে পারে।
এতে আরও বলা হয়েছে, এই সাহিত্যকর্মগুলি জম্মু-কাশ্মীরের যুবসমাজের মধ্যে কট্টরপন্থাকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। যেমন- ঐতিহাসিক সত্যতা বিকৃতি ঘটিয়ে, জঙ্গিপনাকে গৌরবের বলে ব্যাখ্যা করে, নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা গড়ে তুলে, ধর্মীয় মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিয়ে, আলাদা হওয়ার মনোভাব গড়ে তুলে, হিংসার পথ বেছে নেওয়ার আদর্শ গড়ে তুলে এবং সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করার প্রচার করছে বইগুলি। এই কারণে ২৫টি বইকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর অন্তর্গত ৯৮ ধারায় এই বইগুলি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এই বইগুলি ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি বিপজ্জনক বলে মনে করছে সরকার। এক্ষেত্রে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২৫টি বইয়ের মধ্যে রয়েছে, ইসলামি ধর্মগুরু ও জামাত-ই-ইসলামির প্রতিষ্ঠাতা মৌলানা মুদাদির ‘আল জিহাদুল ফিল ইসলাম’, অস্ট্রলীয় লেখক ক্রিস্টোফার স্নেডডেন-এর ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট কাশ্মীর’, ডেভিড দেবদাসের লেখা ‘ইন সার্চ অফ আ ফিউচার দ্য স্টোরি অফ কাশ্মীর’, ভিক্টোরিয়া স্খোফিল্ডের ‘কাশ্মীর ইন কনফ্লিক্ট (ইন্ডিয়া, পাকিস্তান অ্যান্ড দ্য আনএন্ডিং ওয়ার)’, এজি নুরানির লেখা ‘দ্য কাশ্মীর ডিসপিউট (১৯৪৭-২০১২)’ এবং অরুন্ধতী রায়ের লেখা ‘আজাদি’ বইটি। এছাড়াও নিষিদ্ধ লেখকদের তালিকায় রয়েছেন প্রসিদ্ধ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সুমন্ত্র বসু, ঐতিহাসিক আয়েষা জালাল ও সুগত বসু প্রমুখ।