এর আগে জুন মাসে তিনি আমেরিকায় গিয়ে হোয়াইট হাউসে প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক করেন। এবার যাচ্ছেন আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধানের বিদায়ী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে।

দুমাসের মধ্যে এটা নিয়ে দ্বিতীয়বার তিনি পা রাখবেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশে।
শেষ আপডেট: 7 August 2025 11:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-মার্কিন শুল্কযুদ্ধের পরিবেশে নতুন চমক। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ফের যাচ্ছেন আমেরিকায়। দুমাসের মধ্যে এটা নিয়ে দ্বিতীয়বার তিনি পা রাখবেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশে। এর আগে জুন মাসে তিনি আমেরিকায় গিয়ে হোয়াইট হাউসে প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক করেন। এবার যাচ্ছেন আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধানের বিদায়ী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে।
এই সপ্তাহেই পাকিস্তানের চিফ অফ আর্মি স্টাফ তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির টাম্পা যাবেন। সেখানে তিনি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা CENTCOM-এর কমান্ডার জেনারেল মাইকে কুরিল্লার বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। আমেরিকার ম্যাকডিল বিমানঘাঁটিতে সেন্টকমের সদর কার্যালয়ে বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে।
উল্লেখ্য, কুরিল্লাই কয়েক সপ্তাহ আগে সন্ত্রাস দমন সহযোগিতায় পাকিস্তানের প্রশংসা করেছিলেন। তারপরেই ট্রাম্পের দেশে কমান্ড-প্রধানের পরিবর্তন অনুষ্ঠানে সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে আসিম মুনিরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ফলে, তাঁর এই সফর কেবলমাত্র পাকিস্তানের পক্ষে আনন্দদায়ক নয়, ভারতের পক্ষেও এক চরম সতর্কবার্তা বলে অনেকের ধারণা।
প্রসঙ্গত, এই পাকিস্তানই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আন্তর্জাতিক শান্তি স্থাপনে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত বলে জানিয়েছিল। এবং ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতিতে আপসরফার মাধ্যমে একধাক্কায় প্রচুর মাশুল কমিয়ে নিয়েছিল। সেখানে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে যাওয়ায় বুধবারই ট্রাম্প ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা চাপিয়েছেন। সব মিলিয়ে কূটনৈতিক যুদ্ধের দৌড়ে পাকিস্তান বেশ কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বলেও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান কুরিল্লা এর আগে পাকিস্তানের সম্মানীয় সামরিক খেতাব নিশান-ই-ইমতিয়াজে ভূষিত হয়েছিলেন গত মাসে। ইসলামাবাদের প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে তাঁকে সম্মান তুলে দেওয়া হয়। টাম্পায় গিয়ে মুনির ৮ অগস্ট ফ্লোরিডাবাসী এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী আদনান আসাদের ব্যক্তিগত নৈশভোজে যোগ দেবেন। ওই নৈশভোজে উপস্থিত থাকবেন মার্কিন-পাকিস্তানি কিছু বড় ব্যবসায়ী, সেদেশের সেনা আধিকারিক ও কূটনৈতিক আধিকারিকরা।
আসিম মুনিরের এই ঘনঘন মার্কিন মুলুক সফরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের ধারণা সেনাপ্রধানের মতলব শুধু ভারত বিরোধিতা নয়। তিনি কিছুকাল ধরেই পাকিস্তানের গদিতে বসার মতলব আঁটছেন। তাই বিদেশের মাটি থেকে অভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থান ঘটানোর ফন্দি আঁটছেন। কারণ এই আসাদ অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। তাঁর কোম্পানির তৈরি সেনাস্তরের খাদ্যপণ্য শুধু আমেরিকা নয়, বিদেশেও অনেক জায়গায় রফতানি করা হয়। আসাদ হলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পারভেজ মোশারফের তুতো ভাই। তাঁর আমলেই টিস্যু পেপারের ব্যবসা থেকে ফুলেফেঁপে ওঠেন তিনি। পরে ইমরানের খানের জমানাতেও তাঁর সঙ্গে সম্বন্ধ মাখোমাখো করে তোলেন।
বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে শোনা যায়, ২০১৯ সালে করাচিতে তিনি মেয়ের প্রাকবিবাহ উৎসব অনুষ্ঠানে মিকা সিংয়ের গানের অনুষ্ঠান করিয়েছিলেন। সেই ধুমধাড়াক্কার অনুষ্ঠানে হাজির ছিল ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড অন্ধকার জগতে ডন দাউদ ইব্রাহিমের পরিবারে সদস্যরাও।