ট্রাম্প যখন রাশিয়া থেকে তেল কেন নিয়ে নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে ভ্রুকুটি তুলেছেন, তখনই সাউথ ব্লক যেন ডোভালকে মস্কোয় পাঠিয়ে পাল্টা বার্তা দিতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নরেন্দ্র মোদী এবং অজিত ডোভাল
শেষ আপডেট: 7 August 2025 10:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতকে শুল্ক (tariff) গুঁতোয় জেরবার করে দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donal Trump) যখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন, ঠিক সেই সময়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিন (Narendra Modi China visit) সফরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবার এরই মধ্যে মস্কোয় পৌঁছেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল। রাশিয়ার (Russia) সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক, প্রতিরক্ষা, কৌশলগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক কালোত্তীর্ণ।। তবে যে সময়ে ডোভালের এই রাশিয়া সফর, তা যেন এতে আরও মাত্রা জুড়ে দিয়েছে। কারণ, ট্রাম্প যখন রাশিয়া থেকে তেল কেন নিয়ে নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে ভ্রুকুটি তুলেছেন, তখনই সাউথ ব্লক যেন ডোভালকে মস্কোয় পাঠিয়ে পাল্টা বার্তা দিতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন মস্কো সফরে এই দুঁদে গোয়েন্দা!
সাউথ ব্লক সূত্রের খবর, ডোভালের সফরের মূল লক্ষ্য— রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা এবং সু-৫৭ (Su-57) স্টেলথ যুদ্ধবিমান নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তি এগনো।
কেন এই সফর গুরুত্বপূর্ণ?
ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি প্রধান স্তম্ভ হল এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ডোভালের এই সফরে আরও এস-৪০০ ইউনিট কেনার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের মাটিতে এস-৪০০-এর এমআরও (MRO (Maintenance, Repair & Overhaul) সুবিধা গড়ে তোলার বিষয়ে কথা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
ডোভালের সফরে রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান সু-৫৭ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিমান ভারতীয় বায়ুসেনার প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সফরের তাৎপর্য আরও বেড়েছে কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত-রাশিয়া ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রকাশ্য আপত্তি জানিয়ে চলেছেন। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা এবং প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলি নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে ডোভালের মস্কো যাত্রা এক কৌশলগত বার্তা বহন করছে।
বস্তুত ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির পর ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির কাছাকাছি আসা অর্থবহ। ব্রাজিল এরই মধ্যে জানিয়েছে তারা রাশিয়া, চিন ও ভারতের সঙ্গে কথা বলবে। আমেরিকার বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতি ও সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে এগনোর প্রস্তাব দিয়েছে ব্রাজিল। এরই মধ্যে সাত বছর পর ফের চিন সফরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর।
আগামী ৩১ অগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিনের তিয়ানজিন শহরে আয়োজিত এসসিও (Shanghai Cooperation Organisation) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন মোদী। এই সফরের সময়েই তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, ডোভাল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে পারেন। এই বৈঠকে রাশিয়ার তেল সরবরাহ, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি, আমেরিকার হুমকি ইত্যাদি দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত আলোচনায় উঠে আসতে পারে। অবাক করা বিষয় হল, এই সময়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফও মস্কোতে রয়েছেন, যা তাঁর এ বছরের পঞ্চম রাশিয়া সফর।
প্রসঙ্গত, রাশিয়ার এস-৪০০ ব্যবস্থার কার্যকারিতা আগেই প্রমাণিত। কাশ্মীরের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে চালানো ‘অপারেশন সিন্ধুর’-এ এস-৪০০ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, যেখানে ৯টি সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিকে টার্গেট করা হয়। এছাড়াও ভারত-রাশিয়া যৌথভাবে তৈরি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রও পাকিস্তানি বাহিনীর মনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।