মধ্যপ্রদেশে বিজেপি কাউন্সিলরের স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও লাগাতার যৌন হেনস্তার অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। ভাইরাল ভিডিওতে নির্যাতিতাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

অভিযুক্ত অশোক সিং
শেষ আপডেট: 28 December 2025 11:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশে বিজেপি (BJP) কাউন্সিলরের স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও লাগাতার যৌন হেনস্তার অভিযোগ সামনে আসতেই উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগ, ক্ষমতার জোরেই এক মহিলাকে ধর্ষণ ও দীর্ঘদিন ধরে যৌন হেনস্তা করে যাচ্ছেন তিনি। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে দাবি করছেন, “আমার কিচ্ছু হবে না।” ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে দ্রুত। প্রশ্নের মুখে প্রশাসন ও পুলিশি তৎপরতা। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে যাঁকে দেখা যাচ্ছে, তাঁর নাম অশোক সিং (Ashok Singh)। তিনি মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) রামপুর বাঘেলান নগর পরিষদের বিজেপি কাউন্সিলরের স্বামী। ভিডিওতে দেখা যায়, নির্যাতিতা কান্নায় ভেঙে পড়ে অশোক সিংকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, বিষয়টি সমাজমাধ্যমে (Social Media) তুলে ধরবেন। জবাবে অভিযুক্তের ঠান্ডা মাথার মন্তব্য, “আমার কে কী করবে? কিস্যু হবে না। যেখানে খুশি অভিযোগ করো।” এই বক্তব্যই ক্ষোভ উসকে দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা গত সোমবার সাতনা (Satna) জেলার পুলিশ সুপারিটেন্ডেন্ট হংসরাজ সিং (SP Hansraj Singh)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সেখানে তিনি জানান, প্রায় ছ’মাস আগে অশোক সিং বাড়িতে ঢুকে ছুরি দেখিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেন। সেই সময় পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে রেকর্ডও করা হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, মুখ খুললে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে খুন করে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে এতদিন চুপ করে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন নির্যাতিতা। তবে অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। তিনি জানিয়েছেন, চলতি মাসের ২০ ডিসেম্বর ফের তাঁকে যৌন হেনস্তা করা হয় এবং আগের মতোই ভয়ংকর পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়। নির্যাতিতার দাবি, অশোক সিংয়ের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে এবং নিয়মিত তাঁর দোকানে এসে হুমকি দিয়ে যান তিনি।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপারিটেন্ডেন্ট (SP) বিষয়টি ডেপুটি সুপারিটেন্ডেন্ট মনোজ ত্রিবেদী (DSP Manoj Trivedi)-এর কাছে পাঠান। কিন্তু অভিযোগ জমা দেওয়ার পর পাঁচদিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত অশোক সিংকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজও চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে ভাইরাল ভিডিও, গুরুতর অভিযোগ এবং অভিযুক্তের প্রভাবশালী পরিচয়, সব মিলিয়ে মধ্যপ্রদেশের রাজ্য রাজনীতিতে (State Politics) এই মুহূর্তে প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, তদন্তের গতিপথ কোন দিকে যায় এবং আদৌ আইনের হাত অভিযুক্ত পর্যন্ত পৌঁছয় কি না।