উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত বহিষ্কৃত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে শুক্রবার ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছে দিল্লি হাইকোর্টের বাইরে।

নির্যাতিতার মা বলেন, আমার স্বামীকে যে লোকটি খুন করেছে, আমি তার ফাঁসি চাই।
শেষ আপডেট: 26 December 2025 15:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত বহিষ্কৃত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে শুক্রবার ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছে দিল্লি হাইকোর্টের বাইরে। মহিলা সমাজসেবী কর্মীরা এদিন হাইকোর্টের বাইরে বসে বিক্ষোভ দেখান আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে। তাঁরা হাতে পোস্টার নিয়ে রাস্তায় বসে পড়ে আদালতের জামিনের নির্দেশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশ এসে তাঁদের দরজা না আটকানোর অনুরোধ জানায়। কিন্তু, তাঁরা পুলিশের নির্দেশ অমান্য করেই বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তখন পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখায় বলে অভিযোগ।
প্রভাবশালী প্রাক্তন বিজেপি নেতার জামিনে ভয় ও হতাশা প্রকাশ করে নির্যাতিতা ও তাঁর মা বলেন, তাঁরা এই নির্দেশে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সেঙ্গারের গতিবিধি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টার বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বেড়ি পরিয়ে রাখলেও সে অন্য কাউকে খুনের চেষ্টা করাতে পারে আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদ সংস্থার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নির্যাতিতার মা বলেন, এই সিদ্ধান্তের আমরা বিরোধিতা করছি। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে এই রায়ের বিরুদ্ধে যাবেন। তিনি বলেন, ওর জামিন খারিজ করতেই হবে। হাইকোর্টের উপর থেকে আমাদের আস্থা হারিয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টেও যদি সুবিচার না পাই, তাহলে আমরা অন্য দেশে চলে যাব। আমার স্বামীকে যে লোকটি খুন করেছে, আমি তার ফাঁসি চাই।
নারী অধিকার কর্মী যোগিতা ভায়ানা প্রতিবাদীদের একজন। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ দেশের সমস্ত মেয়েদের মধ্যে আইন-বিচার ব্যবস্থার প্রতি হতাশা ফুটিয়ে তুলেছে। দেশের মহিলারা এই নির্দেশে দুঃখ পেয়েছেন। একজন ধর্ষকের সাজা এভাবে বাতিল হয়ে যেতে পারে তা কেউ বিশ্বাস করতে পারছেন না। এটা কেবলমাত্র এই আদালতেই হতে পারে। আমরা চাই যেখান থেকে অবিচার হয়েছে, সেখান থেকেই সুবিচার মিলুক।
আরেক প্রতিবাদী জামিনের নির্দেশ কীসের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কুলদীপ সেঙ্গার যখন একটি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে এবং সাজা ঘোষণাও হয়েছে, তখন কী করে তাকে মুক্ত করে দেওয়া যায়, প্রশ্ন তাঁর। তাকে যখন যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে তখন সে কী করে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে! আমাদের দাবি, একজন ধর্ষককে জেলেই ফেরত পাঠানো হোক, যাতে মেয়েরা নিরাপদ বোধ করতে পারে।