ঘটনাটি ২০১৮ সালের। শিশুটির বাবার সঙ্গে পাঁচ-ছয় বছর ধরে কাজ করতেন বীরেন্দ্র ওরফে ভোলু। তদন্তে উঠে আসে, শিশুটি বাড়িতে একা থাকাকালীন সে প্রথমে তাকে ধর্ষণ করে।
.jpg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 December 2025 21:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছরের শিশুর ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় অভিযুক্ত যুবকের মা'কে বেকসুর খালাস করল পাঞ্জাব হরিয়ানা হাইকোর্ট (Punjab Haryana High Court)। এমনকি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অভিযুক্তের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। হাইকোর্ট জানিয়েছে, "নিজের 'রাজা বেটা'-কে (Raja Beta Case) বাঁচাতে তিনি যা করেছেন তা যতই নিন্দনীয় হোক, ভারতীয় দণ্ডবিধিতে সেই আচরণের জন্য আলাদা শাস্তির বিধান নেই (No Law to Punish Mother)।"
ঘটনাটি ২০১৮ সালের। শিশুটির বাবার সঙ্গে পাঁচ-ছয় বছর ধরে কাজ করতেন বীরেন্দ্র ওরফে ভোলু। তদন্তে উঠে আসে, শিশুটি বাড়িতে একা থাকাকালীন সে প্রথমে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়েই আতঙ্কে শিশুটিকে খুন করে (Child Rape and Murder Case)। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, এটি কোনও পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ছিল না, ধর্ষণের প্রমাণ নষ্ট করার জন্যই খুন করা হয়েছে।
২০২০ সালে ট্রায়াল কোর্ট বীরেন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড দেয় এবং তার মা কমলা দেবীকে ষড়যন্ত্র ও প্রমাণ নষ্টের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। কিন্তু নতুন রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, কমলা দেবীর বিরুদ্ধে আইনি দিক থেকে কোনও প্রমাণ নেই। বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, "এই সমাজে অনেক মায়েরই ছেলে সন্তানের প্রতি এমন অন্ধ ভালবাসা থাকে যে, সন্তান যতই অপরাধী হোক তারা ‘রাজা বেটা’ ভেবে তাকে আড়াল করতে চান। এই মানসিকতা নিন্দনীয় হলেও আইনের চোখে সবসময় শাস্তিযোগ্য নয় ((No Law to Punish Mother))।"
বেঞ্চ আরও জানায়, বীরেন্দ্রর বিরুদ্ধে প্রমাণের চেইন সম্পূর্ণ এবং তার দোষ প্রমাণিত। শিশুটির দেহ উদ্ধার হয় অভিযুক্তের বাড়ির ভেতর থেকেই। তবে মৃত্যুদণ্ডের বদলে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালত বলে, কোনও অপরাধীই একমাত্র দৃষ্টান্তমূলক মৃত্যুদণ্ডের ভয়েই অপরাধ করা বন্ধ করে, এমন ধারণা যুক্তিযুক্ত নয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অতীতে কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই, জেলে আচরণও শৃঙ্খলাপূর্ণ, ফলে তার সংস্কারের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে আদালত কড়া ভাষায় উল্লেখ করেছে, “সমাজের অন্য শিশু ও নারীদের নিরাপত্তার জন্য দোষীকে দীর্ঘদিন কারাগারের চার দেওয়ালের মধ্যেই থাকতে হবে। তার ‘পুরুষালি শক্তি সূর্যাস্তের দিকে যাওয়া’ পর্যন্ত জেলেই থাকা উচিত।”
শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত, বীরেন্দ্রকে আজীবন কারাদণ্ড, যার অন্তত ৩০ বছর কোনওভাবেই জামিন যোগ্য হবে না। আর কমলা দেবীকে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্ট।