চাকমা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া (CDFI) শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Union Home Minister Amit Shah) কাছে দাবি জানিয়েছে যে উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে (Dehradun, Uttarakhand) ত্রিপুরার তফসিলি জনজাতিভুক্ত ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমাকে (Angel Chakma) হত্যার ঘটনার দ্রুত বিচার করতে হবে।

ত্রিপুরার তফসিলি জনজাতিভুক্ত ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমাকে (Angel Chakma) হত্যার ঘটনার দ্রুত বিচার করতে হবে।
শেষ আপডেট: 27 December 2025 17:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকমা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া (CDFI) শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Union Home Minister Amit Shah) কাছে দাবি জানিয়েছে যে উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে (Dehradun, Uttarakhand) ত্রিপুরার তফসিলি জনজাতিভুক্ত ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমাকে (Angel Chakma) হত্যার ঘটনার দ্রুত বিচার করতে হবে। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচার করে অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি দাবি করেছে ওই সংগঠন।
সংগঠনটির দাবি ত্রিপুরার ওই ছাত্র জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বর্ণবিদ্বেষমূলক সহিংসতার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গঠিত বেজবরুয়া কমিটির সুপারিশ মেনে একটি বর্ণবিদ্বেষ-বিরোধী আইন প্রণয়ন করাও দাবি জানিয়েছে ওই সংগঠন। গুরুতর আহত ওই ছাত্র দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় লড়াই করার পর পর অ্যাঞ্জেল চাকমা বৃহস্পতিবার দেরাদুনের গ্রাফিক এরা হাসপাতালে মারা যান।
প্রসঙ্গত, ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ অ্যাঞ্জেল চাকমা ও তাঁর ছোট ভাই মাইকেল চাকমা সেলাকুই বাজারের মুদিখানায় যান। কোনও উসকানি ছাড়াই ছয়জন স্থানীয় ব্যক্তি কেবল তাঁদের শারীরিক চেহারার ভিত্তিতে তাঁদের হয়রানি করতে শুরু করে। হামলাকারীরা 'নেপালি', 'চাইনিজ', 'চিঙ্কি' ও 'মোমোস'-এর মতো জাতিগত কটূক্তি ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে। দুই ভাই এই জাতিগত হয়রানির প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা হিংস্র আক্রমণ চালায়। মাইকেল চাকমার মাথায় একটি হাতুড়ি দিয়ে এবং অ্যাঞ্জেল চাকমার গলা ও পেটে ছুরি দিয়ে নৃশংসভাবে আঘাত করা হয়। হামলাকারীরা তাঁদের হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অভিযোগ ওঠে উত্তরাখণ্ড পুলিশ ওই ঘটনা নিয়ে দ্রুত তদন্ত শুরু করেনি। তারা মামলা দিতে গড়িমসি করে। এফআইআর নথিভুক্ত করতে তিন দিন সময় নিয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর প্রাসঙ্গিক ধারা ১০৯ (হত্যার চেষ্টা) এবং ধারা ১১৭(৪) (জাতি বা বর্ণের ভিত্তিতে জনতার দ্বারা গুরুতর আঘাত) ও তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন প্রয়োগ করেনি। এর ফলে মূল অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং এখনও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, এমন অভিযোগ করেছেন সিডিএফআই-এর প্রতিষ্ঠাতা সুহাস চাকমা।
তিনি বলেন, 'অ্যাঞ্জেল চাকমার মর্মান্তিক মৃত্যু দিল্লিতে অরুণাচল প্রদেশের নিডো তানিয়ার জাতিগত হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে। যে ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এমপি বেজবরুয়া কমিটি গঠন করেছিল। বেজবরুয়া কমিটি ২০১৪ সালে সুপারিশ করেছিল যে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী অগ্রাধিকারক্রমে হয় একটি নতুন আইন প্রণয়ন, নয়তো ভারতীয় দণ্ডবিধি সংশোধন করা হোক।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় অন্তর্ভুক্ত সংশোধনীগুলির মধ্যে ধারা ১৯৬ (ধর্ম, বর্ণ, জন্মস্থান, বাসস্থান, ভাষা ইত্যাদির ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা উসকে দেওয়া এবং সম্প্রীতি নষ্টকারী কার্যকলাপ) এবং ধারা ১৯৭ (জাতীয় সংহতির পরিপন্থী আরোপ ও বক্তব্য) উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে জাতিগত বৈষম্য ও সহিংসতার ঘটনাগুলি মোকাবিলায় অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করে সিডিএফআই একটি পৃথক আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।
সিডিএফআই আরও অনুরোধ জানিয়েছে যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক উত্তরাখণ্ড সরকারকে নির্দেশ দিক যাতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ধারা ১০৩ (২) অনুযায়ী হত্যা মামলা এবং তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন প্রয়োগ করা হয়, মূল অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হয়। দেরাদুনে উত্তর-পূর্ব ভারতের নাগরিকদের জন্য স্পেশাল পুলিশ ইউনিট ফর নর্থ-ইস্টার্ন রিজিয়ন (SPUNER)-এর আদলে একটি বিশেষ হেল্পলাইন স্থাপন, সেলাকুই থানায় এফআইআর নথিভুক্ত করতে অস্বীকৃতি ও গাফিলতির তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং নিহতের নিকটাত্মীয়দের ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়।