পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে গ্যাসের ঘাটতি নিয়ে আতঙ্ক ছড়ালেও দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে আশ্বাস কেন্দ্রের। এবার কালোবাজারি রুখতে কড়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারগুলির।

এলপিজি
শেষ আপডেট: 13 March 2026 10:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি (War in West Asia) ঘিরে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তেই দেশের নানা প্রান্তে রান্নার গ্যাস (LPG Cylinder) নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কোথাও লম্বা লাইন, কোথাও আবার কালোবাজারির অভিযোগ। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক রাজ্য প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ করেছে। যেমন মহারাষ্ট্র (Maharashtra) সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, রাজ্যে গ্যাসের কোনও ঘাটতি (LPG Supply Shortage) নেই। একই সঙ্গে কালোবাজারি রুখতে মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh) ও উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh) অভিযান চালিয়ে বহু সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রে নজরদারিতে কড়াকড়ি
মহারাষ্ট্রের খাদ্য, নাগরিক সরবরাহ ও ভোক্তা সুরক্ষা দফতরের (Food, Civil Supplies and Consumer Protection Department) অতিরিক্ত মুখ্যসচিব অনিল দিগগিকার (Anil Diggikar) জেলার প্রশাসনগুলিকে গ্যাস সরবরাহের উপর কড়া নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্য, বিভাগ, জেলা ও তালুক স্তরে চালু করা হয়েছে কন্ট্রোল রুম (Control Room)। এখান থেকেই রিয়েল-টাইম নজরদারি (Real-Time Monitoring) করা হচ্ছে।
প্রশাসনের নির্দেশ, প্রতিটি জেলায় জেলা শাসকের (District Collector) নেতৃত্বে কমিটি (District-Level Committee) গঠন করতে হবে। সেই কমিটিতে থাকবেন পুলিশ সুপার (Superintendent of Police), জেলা সরবরাহ আধিকারিক (District Supply Officer) এবং তেল সংস্থার প্রতিনিধিরা (Oil Companies)। মুম্বই-ঠাণে (Mumbai–Thane) এলাকায় আবার আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে রেশনিং কন্ট্রোলারের (Controller of Rationing) নেতৃত্বে।
জরুরি পরিষেবায় গ্যাসের অগ্রাধিকার
ফড়নবিশ সরকার জানিয়েছে, হাসপাতাল (Hospital), সরকারি হস্টেল (Government Hostel), স্কুল-কলেজের মেস (School and College Mess), মিড-ডে মিল রান্নাঘর (Mid-Day Meal Kitchen) এবং আশ্রম স্কুলে (Ashram School) গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রয়োজনে কেরোসিন (Kerosene) বা কয়লা (Coal)-র মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে, অবশ্যই মহারাষ্ট্র দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (Maharashtra Pollution Control Board) নিয়ম মেনে।
মধ্যপ্রদেশ
এদিকে মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর (Chhatarpur) জেলায় দু’দিনে মোট ৩৮টি গ্যাস সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করেছে প্রশাসন। নওগাঁও (Nowgong) এলাকার বিলহারি গ্রামে (Bilhari Village) একটি ওয়াটার প্ল্যান্টে অভিযান চালিয়ে ১৩টি খালি সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট জি এস প্যাটেল (GS Patel)।
এর আগের দিন বিশ্বনাথ কলোনিতে (Vishwanath Colony) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শ্যামলাল আহিরওয়ারের (Shyamlal Ahirwar) বাড়িতে হানা দিয়ে ২৫টি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়। জেলা খাদ্য আধিকারিক সীতারাম কোথারে (Sitaram Kothare) জানিয়েছেন, পেট্রলিয়াম আইনে (Petroleum Act) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশেও অভিযান
উত্তরপ্রদেশের হাপুরে (Hapur) একটি বাড়িতে হানা দিয়ে ৩২টি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে ১৮টি ভর্তি এবং ১৪টি খালি ছিল। জেলা সরবরাহ আধিকারিক সীমা বালিয়ান (Seema Baliyan) জানিয়েছেন, কালোবাজারি ঠেকাতে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।
দিল্লি নিয়ে আরও কড়া প্রশাসন
রাজধানীতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তিন মন্ত্রীর একটি বিশেষ কমিটি (Three-Minister Committee) গঠন করা হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। কমিটিতে রয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী।
কেন্দ্রের আশ্বাস
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের (Ministry of Petroleum and Natural Gas) যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা (Sujata Sharma) বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে জানিয়েছেন, দেশে এলপিজি (LPG), পেট্রল (Petrol), ডিজেল (Diesel), কেরোসিন (Kerosene) এবং প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas) পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ সিলিন্ডার সরবরাহ করছে ২৫ হাজারের বেশি ডিস্ট্রিবিউটর (LPG Distributor)। তাই চিন্তার কারণ নেই। সকলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও (Narendra Modi) দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, কিছু মানুষ গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি খারাপ করার চেষ্টা করছে। তাই জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।