গত ১২ জুন এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে উঠে আসে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম (ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ) থেকে আচমকা ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 July 2025 23:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের ভূমিকা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। এরইমধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হল, এয়ার ইন্ডিয়ার সব বোয়িং ৭৮৭ বিমানে (Air India Boeing 787 Flight) জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম বা ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের (FCS) লকিং মেকানিজম পরীক্ষা শেষ, তাতে কোনও ত্রুটি ধরা পড়েনি।
গত ১২ জুন এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে উঠে আসে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম (ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ) থেকে আচমকা ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এরপরই ডিজিসিএ (DGCA) নির্দেশ দেয়, বোয়িং ৭৮৭ এবং ৭৩৭ মডেলের প্রতিটি বিমানে ওই সিস্টেমের লকিং ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে হবে।
এই নির্দেশ মেনেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পুরো বোয়িং ৭৮৭ বহরে লকিং সিস্টেম পরীক্ষা করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। সংস্থার এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, 'আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই সব বোয়িং ৭৮৭ বিমানের লকিং মেকানিজম খতিয়ে দেখেছে। কোথাও কোনও ত্রুটি পাওয়া যায়নি। এই ফলাফল আমরা আমাদের পাইলটদের কাছেও পাঠিয়েছি।'
তিনি আরও জানান, এয়ার ইন্ডিয়ার সব বোয়িং ৭৮৭-৮ মডেলে আগেই থ্রটল কন্ট্রোল মডিউল (TCM) বদল করা হয়েছে। এই মডিউলেরই একটি অংশ হল ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ।
উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার পরে এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)-র ১৫ পাতার প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা যায়, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমানে উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই মাত্র এক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি ইঞ্জিনের জ্বালানি সুইচ ‘রান’ অবস্থা থেকে ‘কাট-অফ’ হয়ে যায়। এর ফলেই একসঙ্গে দু’টি ইঞ্জিনই বন্ধ হয়ে যায়।
এই গুরুতর ত্রুটির পর, গোটা বোয়িং ৭৮৭ বহরের ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে আপাতত তেমন কোনও ত্রুটি ধরা পড়েনি বলেই আশ্বস্ত করছে সংস্থা।
প্রসঙ্গত, এয়ার ইন্ডিয়া বিমানের দুর্ঘটনার (Air India Plane Crash) মাত্র চার সপ্তাহ আগেই বিমানের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ (ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ) নিয়ে সতর্ক করেছিল ব্রিটেনের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (CAA)।
গত ১৫ মে ব্রিটেনের এই বিমান নিরাপত্তা সংস্থা একটি নির্দেশিকা জারি করে বোয়িং-এর পাঁচটি মডেলের (যার মধ্যে ৭৮৭ ড্রিমলাইনারও রয়েছে) বিষয়ে বিমান সংস্থাগুলিকে প্রতিদিন জ্বালানি শাট-অফ ভাল্ভের অবস্থা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়। তারা জানায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) এর একটি এয়ারওয়ার্থিনেস ডিরেকটিভ (AD) অনুযায়ী, ফুয়েল শাট-অফ ভাল্ভ অ্যাকচুয়েটরগুলোতে সম্ভাব্য ত্রুটির আশঙ্কা রয়েছে।
সিএএ-এর নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, প্রতিটি সংস্থা যেন তাদের বিমানের উপর এডি-র প্রভাব রয়েছে কি না, তা যাচাই করে এবং প্রয়োজনে ভাল্ভগুলির পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মেরামত বা প্রতিস্থাপন করে। বিশেষত বোয়িং ৭৮৭ মডেলগুলির ক্ষেত্রে এই নির্দেশ কার্যকর করার জোর দেওয়া হয়।