Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

চণ্ডীগড়ে আর্টিকল ২৪০? 'রাজধানী চুরি'র বিতর্কে শাহের মন্ত্রক বলল, ‘এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নয়’

শোনা যাচ্ছিল, সামনের শীতকালীন অধিবেশনে কেন্দ্রের সরকার নাকি এই সংক্রান্ত একটি বিল নিয়ে আসতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আপ-শাসিত পঞ্জাব সরকার বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করছিল।

চণ্ডীগড়ে আর্টিকল ২৪০? 'রাজধানী চুরি'র বিতর্কে শাহের মন্ত্রক বলল, ‘এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নয়’

ছবি সংগৃহীত

শুভম সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: 23 November 2025 17:46

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চণ্ডীগড়কে (Chandigarh) কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কাঠামোর মধ্যে নতুন করে সাজানো হবে কি না, তা ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার (Punjab Haryana) যৌথ রাজধানী এই শহরকে সংবিধানের ২৪০ অনুচ্ছেদের আওতায় আনার বিষয়ে জোর জল্পনা চলছিল। শোনা যাচ্ছিল, সামনের শীতকালীন অধিবেশনে কেন্দ্রের সরকার নাকি এই সংক্রান্ত একটি বিল নিয়ে আসতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আপ-শাসিত পঞ্জাব সরকার বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করছিল। সেই রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই এ বার আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Central Government)।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রক জানায়, চণ্ডীগড়ে কেন্দ্রীয় আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, সেটি এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এই নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি পাঞ্জাব ও হরিয়ানার সঙ্গে কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও মন্ত্রক গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছে। স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিদ্যমান শাসন কাঠামো বা দুটি রাজ্যের সঙ্গে চণ্ডীগড়ের সম্পর্ক বদলানোর কোনও পরিকল্পনা নেই।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সংসদের একটি বুলেটিন থেকে, যেখানে আন্দামান-নিকোবর, দাদরা ও নগর হাভেলি, দমন-দিউ, লাক্ষাদ্বীপ এবং পুদুচেরির মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির তালিকায় চণ্ডীগড়কে যুক্ত করার প্রস্তাব উঠে আসে। বিরোধী শিবিরে সঙ্গে সঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পাঞ্জাবের আপ সরকার অভিযোগ তোলে, চণ্ডীগড়ের উপর তাদের ঐতিহাসিক দাবিকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই কেন্দ্র এমন পদক্ষেপ পরিকল্পনা করছে। উল্লেখ্য, সংবিধানের ২৪০ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের শান্তি, উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য বিধি তৈরির ক্ষমতা দেয়।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিংহ মান কেন্দ্রের প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা করেন। তাঁর মতে, এনডিএ সরকার পাঞ্জাবের রাজধানী ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। মানের বক্তব্য, চণ্ডীগড় আজও পাঞ্জাবের অংশ— মূল রাজ্য হিসেবে রাজধানীর অধিকার একমাত্র পঞ্জাবেরই। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আঘাত করতে চাইছে। আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়ালও একই সুরে কেন্দ্রের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন।

বিরোধিতার তালিকায় রয়েছে কংগ্রেস ও শিরোমণি অকালি দলও। পাঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিংহ রাজা এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে ‘‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, চণ্ডীগড়কে পাঞ্জাবের বাইরে ঠেলে দেওয়ার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেই লড়াই করা হবে। অকালি দলনেতা সুখবীর সিংহ বাদলের মতে, এটি পাঞ্জাবের অধিকার লঙ্ঘনের সমতুল্য।

১৯৬৬ সালে পাঞ্জাব-হরিয়ানা বিভাজনের সময় চণ্ডীগড়কে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করা হলেও, এটি এখনও দুই রাজ্যেরই যৌথ রাজধানী। বর্তমানে পাঞ্জাবের রাজ্যপালই চণ্ডীগড়ের প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন। বহু বছর ধরেই পাঞ্জাবের দাবি— চণ্ডীগড়কে পূর্ণাঙ্গ ভাবে তাদের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হোক এবং হরিয়ানার জন্য আলাদা রাজধানী নির্ধারণ করা হোক। এত দিন পর্যন্ত ২৪০ অনুচ্ছেদের আওতায় না থাকায় চণ্ডীগড়ের প্রশাসনিক কাঠামো বিশেষ ধরনের ছিল। সেই কাঠামোই কী এ বার বদলাতে চলেছে— এই প্রশ্নেই রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তাল।

পাঞ্জাব বিজেপির প্রধান সুনীল জাখরও আংশিক ভাবে এই সমালোচনার সঙ্গে একমত হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের স্বার্থে বিজেপি সবসময় দৃঢ়। চণ্ডীগড় বা জলের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে তারা পাঞ্জাবের পক্ষেই থাকবে। তবে তাঁর বক্তব্য, কোনও বিভ্রান্তি তৈরি হলে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করেই সমাধানের পথ খোঁজা উচিত।


```