লোকসভায় তুমুল স্লোগান ও বিক্ষোভের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। বিরোধী সাংসদরা এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)-র কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল (Jagdambika Pal) ঘোষণা করেন যে স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবটি পরাজিত হয়েছে।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ
শেষ আপডেট: 11 March 2026 20:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বড় ধাক্কা খেল বিরোধীরা (opposition protest in Loksabha)। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)-র বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব বুধবার ভয়েস ভোট বা ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে খারিজ হয়ে গেল (Om Birla no confidence motion rejected)।
লোকসভায় তুমুল স্লোগান ও বিক্ষোভের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। বিরোধী সাংসদরা এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)-র কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল (Jagdambika Pal) ঘোষণা করেন যে স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা (Lok Sabha Speaker no confidence motion) প্রস্তাবটি পরাজিত হয়েছে।
বিক্ষোভের মধ্যেই ধ্বনি ভোট
লোকসভায় বিরোধী সদস্যদের প্রতিবাদ ও স্লোগান চলতে থাকায় অধিবেশন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে বারবার বিরোধী সাংসদদের নিজেদের আসনে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান জগদম্বিকা পাল। তিনি বারবার বলেন, প্রস্তাবটি ভোটে তোলার জন্য সাংসদদের আসনে ফিরতে হবে।
কিন্তু বিক্ষোভ থামেনি। শেষ পর্যন্ত তিনি কক্ষের মতামত জানতে চান এবং ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হয়ে যায়। এরপর এ দিনের মতো লোকসভা মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোপ অমিত শাহর
এর আগে লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর মতে, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার মাধ্যমে বিরোধীরা ভারতের গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
শাহ বলেন, “সংবিধান স্পিকারকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা দিয়েছে। আর আপনারা সেই মধ্যস্থতাকারীর উপরই সন্দেহ প্রকাশ করছেন। গত ৭৫ বছরে সংসদের দুই কক্ষ আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তিকে ‘পাতাল’-এর থেকেও গভীর করেছে। বিরোধীরা সেই গভীর ভিত্তির সুনামকেই প্রশ্নের মুখে তুলেছে।”
স্পিকারের নিরপেক্ষতার পক্ষে সওয়াল
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সংসদের কার্যক্রম পারস্পরিক আস্থা এবং নির্দিষ্ট বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
শাহর কথায়, লোকসভার স্পিকারের দায়িত্ব হল সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে সংসদের কাজ পরিচালনা করা এবং তিনি শাসক ও বিরোধী - দুই পক্ষেরই প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
তিনি আরও বলেন, “এই কক্ষের প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস অনুযায়ী সংসদের কার্যক্রম পারস্পরিক বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে চলে। স্পিকার একজন নিরপেক্ষ রক্ষক, যিনি শাসক দল এবং বিরোধী, উভয় পক্ষেরই প্রতিনিধিত্ব করেন। এই লোকসভাই নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করেছে, যাতে স্পিকার কীভাবে অধিবেশন পরিচালনা করবেন তা নির্ধারিত থাকে। এই কক্ষ কোনও বাজার নয়, এখানে প্রত্যেক সদস্যকে নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে বক্তব্য রাখতে হয়।”
সংসদে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক
স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে সংসদের ভেতরে রাজনৈতিক টানাপড়েন আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিরোধীরা অভিযোগ করছে, স্পিকার নিরপেক্ষভাবে অধিবেশন পরিচালনা করছেন না। অন্যদিকে শাসক দল দাবি করছে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদের ভেতরে সরকার ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।