আগামী ২২ নভেম্বর বিহারের বর্তমান বিধানসভার (Bihar Assembly) মেয়াদ শেষ হবে। তার আগেই নতুন সরকার গঠনের সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করতে চাইছে এনডিএ জোট। আগামিকাল গান্ধী ময়দানে শপথ নিতে পারে নতুন এনডিএ সরকার-যেখানে নীতীশেরই আবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
.jpg.webp)
নীতীশ কুমার (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 19 November 2025 09:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে এনডিএ (NDA) জোট। তারপর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে। এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও একাধিক সূত্র দাবি করছে, নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) ফের বিহারের মুখ্যমন্ত্রী (Bihar CM) হতে চলেছেন। এইসবের মাঝেই বুধবার (১৯ নভেম্বর) মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেবেন জেডিইউ (JDU(U)) প্রধান। এদিকে, নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতিও চলছে জোরদার। আগামিকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে বিহারে।
আগামী ২২ নভেম্বর বিহারের বর্তমান বিধানসভার (Bihar Assembly) মেয়াদ শেষ হবে। তার আগেই নতুন সরকার গঠনের সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করতে চাইছে এনডিএ জোট। আগামিকাল গান্ধী ময়দানে শপথ নিতে পারে নতুন এনডিএ সরকার-যেখানে নীতীশেরই আবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদিও এনডিএ-র তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবে জোটের শীর্ষ নেতাদের ইঙ্গিতে স্পষ্ট- নীতীশই সরকারের মুখ।
বৃহস্পতিবার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-সহ দেশের বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিরর মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। এনডিএ শিবিরের দাবি, এটাই হবে বিহারের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শপথ অনুষ্ঠান।
ইস্তফার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের ক্ষমতায় ফেরা! নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) এই ‘টাইমলাইন’ আরও স্পষ্ট হয়েছে গত সোমবার। যেদিন তিনি রাজ্যপালকে বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করেন। সূত্রে খবর, বুধবার সকালে নীতীশ কুমার প্রথমে জেডিইউ বিধায়ক দলের নেতা হবেন। এরপর বিকেলে তাঁকে এনডিএ বিধায়ক দলও নেতা হিসেবে নির্বাচিত করবে। এই দু’টি ধাপ শেষ করেই তিনি বর্তমান সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন এবং নতুন সরকার গঠনের দাবি জানাবেন।
এদিকে, উপমুখ্যমন্ত্রী (Bihar Deputy CM) পদ নিয়ে আলোচনা চলেছে। আগের সরকারের মতো দু'জন উপমুখ্যমন্ত্রী থাকবেন কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে বুধবারের বৈঠকে। বিজেপির একাংশ একজন উপমুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে, আবার জেডিইউ চাইছে যদি বিজেপি স্পিকার পায়, তাহলে উপমুখ্যমন্ত্রী একজনই হোক। লিঙ্গ ও জাতিভিত্তিক সমীকরণও বিবেচনায় থাকবে বলে ইঙ্গিত জোটের ভেতরেই।
এনডিএ শিবিরের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, নতুন মন্ত্রিসভায় কয়েকটি 'চমক' থাকতে পারে। বিশাল জয়ের পর তারা এমন একটি দল গঠন করতে চায়, যেখানে অভিজ্ঞতা আর তরুণ নেতৃত্ব- দুই-ই জায়গা পাবে।
মন্ত্রিত্ব ভাগের জন্য ‘৬ বিধায়ক = ১ মন্ত্রী’- এই সূত্রে হিসেব চলছে। সেই অনুযায়ী, এলজেপি (রামবিলাস) পেতে পারে ৩টি দফতর, আর দুটি ছোট দল আরএলএম ও হাম( এস) একটি করে মন্ত্রিত্ব। মোট মন্ত্রীর সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ৩৬।
যদি সবকিছু পরিকল্পনা মতো চলে, তাহলে নীতীশ কুমার এবার দশমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হবেন। ২০০৫ সাল থেকে একাধিক জোটে তিনি রাজ্য পরিচালনা করেছেন, আর এবারও তিনিই এনডিএ-র মুখ।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে এনডিএ পেয়েছে ২০২টি আসন, যা তাদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। ফলে নতুন সরকার গঠনে কোনও বাধা নেই।