এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি (Nitish Kumar hijab controversy)। তবে বিতর্ক যে এখানেই থামছে না, তা স্পষ্ট।

শেষ আপডেট: 15 December 2025 21:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার পাটনায় আয়োজিত সরকারি এক অনুষ্ঠানে আয়ুষ (AYUSH) বিভাগের ১,২৮৩ জন চিকিৎসকের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হচ্ছিল (Bihar AYUSH doctors appointment row)। উপস্থিত ছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও (Nitish Kumar)। সেখানেই এক মহিলা চিকিৎসকের হিজাব টানার অভিযোগে তীব্র বিতর্কে জড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী (Nitish Kumar hijab controversy)। মঞ্চে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে প্রবল শোরগোল (Bihar Politics)।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে ৬৮৫ জন আয়ুর্বেদিক, ৩৯৩ জন হোমিওপ্যাথিক এবং ২০৫ জন ইউনানি চিকিৎসক। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল - রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মজবুত করা, চিকিৎসা শিক্ষার প্রসার এবং সাধারণ মানুষের কাছে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এনডিএ সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরা।
কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীন ওই একটি মুহূর্তই সমস্ত আলো কেড়ে নেয়। শুরু হয় বিতর্ক।
কী ঘটেছিল মঞ্চে?
প্রকাশ্যে আসা ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক মহিলা চিকিৎসক মঞ্চে উঠে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করছেন। নিয়োগপত্র দেওয়ার পর হাসতে হাসতে নীতীশ কুমার ওই চিকিৎসকের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, “এটা কী?” মহিলা চিকিৎসক উত্তর দেন, “স্যার, এটা হিজাব।”
ঠিক সেই সময়েই, তাঁর কথা শেষ হওয়ার আগেই, মুখ্যমন্ত্রীকে হিজাব টানতে দেখা যায়। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে ঘটনাটি ঘটে গিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও তীব্র অভিযোগ
ঘটনার ভিডিও ক্লিপটি নিজেদের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD)। ভিডিওর সঙ্গে কড়া ভাষায় লেখা হয়, “নীতীশজির কী হয়েছে? তাঁর মানসিক অবস্থার কি সম্পূর্ণ অবনতি হয়েছে, নাকি নীতীশ বাবু এখন ১০০ শতাংশ সঙ্ঘী হয়ে গিয়েছেন?”
यह क्या हो गया है नीतीश जी को?
मानसिक स्थिति बिल्कुल ही अब दयनीय स्थिति में पहुंच चुकी है या नीतीश बाबू अब 100% संघी हो चुके हैं?@yadavtejashwi #RJD #bihar #TejashwiYadav pic.twitter.com/vRyqUaKhwm— Rashtriya Janata Dal (@RJDforIndia) December 15, 2025
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আরজেডি-র বিহার মুখপাত্র ইজাজ আহমেদ। তাঁর বক্তব্য, “নিয়োগপত্র দেওয়ার সময় একজন মুসলিম মহিলার মুখ থেকে হিজাব সরিয়ে দেওয়া মানে শুধু ওই চিকিৎসককেই নয়, সমস্ত মহিলাকেই অপমান করা।”
তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনায় এনডিএ সরকারের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, বিজেপি ও আরএসএস-কে খুশি করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই ধরনের রাজনীতি করছেন।
ये बिहार के मुख्यमंत्री नीतीश कुमार हैं।
इनकी बेशर्मी देखिए- एक महिला डॉक्टर जब अपना नियुक्ति पत्र लेने आई तो नीतीश कुमार ने उनका हिजाब खींच लिया।
बिहार के सबसे बड़े पद पर बैठा हुआ आदमी सरेआम ऐसी नीच हरकत कर रहा है। सोचिए- राज्य में महिलाएं कितनी सुरक्षित होंगी?
नीतीश कुमार… pic.twitter.com/2AO6czZfAA— Congress (@INCIndia) December 15, 2025
সংবিধানের প্রসঙ্গ টেনে কড়া আক্রমণ
ইজাজ আহমেদের কথায়, “ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে নিজের ধর্মীয় রীতি ও আচার পালনের স্বাধীনতা দিয়েছে। সেই সংবিধান অনুযায়ী, একজন মুখ্যমন্ত্রী যদি জোর করে এমন কাজ করেন, তাহলে মনে হয় বিহার এখন পুরোপুরি সঙ্ঘের আদর্শে পরিচালিত হচ্ছে।”
তিনি এই ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান এবং বলেন, এটি নারীদের সম্মানহানির শামিল।
এই ঘটনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিতর্ক যে এখানেই থামছে না, তা স্পষ্ট।