শালগুলি মন্দিরের গুরুত্বপূর্ণ দাতাদের উপহার হিসেবেও দেওয়া হয় (Tirupati silk shawl scam), আবার বেদশীরবচনম–সহ নানা পুজো ও আচারেও ব্যবহৃত হয়।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 10 December 2025 18:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাড্ডু ঘটনার পর অন্ধ্রপ্রদেশের বিখ্যাত তিরুপতি মন্দির ঘিরে ফের নতুন এক বিতর্ক Tirumala temple controversy)। তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমস (TTD)–এর অন্তর্বর্তী সতর্কতা দফতরের তদন্তে উঠে এসেছে এক গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ। সেখানে দশ বছর ধরে নাকি খাঁটি রেশমের বদলে ১০০ শতাংশ পলিয়েস্টার শাল (polyester shawl fraud) সরবরাহ করা হচ্ছিল, অথচ বিল পেশ করা হত ‘খাঁটি মালবেরি সিল্ক’ নামেই (Tirupati silk shawl scam)। অভিযোগের অঙ্ক প্রায় ৫৪ কোটি টাকা।
কীভাবে ধরা পড়ল এই জালিয়াতি (Tirumala temple corruption)?
TTD–র নতুন চেয়ারম্যান বি আর নাইডুর নেতৃত্বে বোর্ডে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই শুরু হয় অভ্যন্তরীণ সতর্কতা তদন্ত। তদন্তকারীরা দেখেন, যিনি শাল সরবরাহের চুক্তি পেয়েছিলেন, তিনি টেন্ডারের শর্তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও খাঁটি মালবেরি সিল্কের জায়গায় সস্তা পলিয়েস্টার দিয়ে কাজ সারছেন।
শালগুলি মন্দিরের গুরুত্বপূর্ণ দাতাদের উপহার হিসেবেও দেওয়া হয়, আবার বেদশীরবচনম–সহ নানা পুজো ও আচারেও ব্যবহৃত হয়। তাই এই জালিয়াতির পরিমাণ বিপুল এবং তা দীর্ঘমেয়াদি।
দশ বছরে ক্ষতি ৫৪ কোটিরও বেশি
তদন্তে উঠে আসে, প্রায় এক দশক ধরে এই অনিয়ম চলেছে। নাইডুর কথায়, “যে শালের আসল দাম প্রায় ৩৫০ টাকা, তার বিল করা হয়েছে ১,৩০০ টাকা ধরে। মোট সরবরাহের অঙ্ক ৫০ কোটিরও বেশি। আমরা রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখায় তদন্তের আবেদন করেছি।”
ল্যাব টেস্টেই ফাঁস
TTD–র সতর্কতা দফতর শালের নমুনা বিশ্লেষণের জন্য পাঠায় দু’টি কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরিতে, যার মধ্যে একটি ছিল সেন্ট্রাল সিল্ক বোর্ডের ল্যাব। দু’টিই জানায়, শাল ১০০ শতাংশ পলিয়েস্টার। অর্থাৎ, টেন্ডার শর্তের সরাসরি লঙ্ঘন।
আরও বড় কথা, শালগুলিতে থাকা উচিত ছিল বাধ্যতামূলক সিল্ক হলোগ্রাম, যা থাকে খাঁটি রেশম চিহ্নিত করতে। সেই হলোগ্রাম ছিলই না।
একাধিক সংস্থার আড়ালে একই গোষ্ঠী
তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, একটি সংস্থা ও তার কয়েকটি ‘সিস্টার কনসার্ন’–ই দীর্ঘদিন ধরে TTD–তে কাপড় সরবরাহের বেশিরভাগ কাজ পেত। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওঠে বিক্রেতা যাচাই–বাছাই নিয়ে প্রশ্ন।
TTD–র তড়িঘড়ি পদক্ষেপ
সতর্কতা রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর TTD ট্রাস্ট বোর্ড তৎক্ষণাৎ ওই সংস্থার সমস্ত টেন্ডার বাতিল করে দেয়। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা (ACB)–র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, সম্পূর্ণ ফৌজদারি তদন্তের জন্য।
পরপর বিতর্কে চাপে বিশ্বের ধনীতম মন্দির
সাম্প্রতিক সময়ে TTD–কে ঘিরে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠছে,
* লাড্ডু প্রসাদে ব্যবহৃত ঘি–এর মিথ্যে মান নিয়ে বিতর্ক
* পারাকামানি (হুন্ডি টাকার গণনা) সংক্রান্ত চুরি–কাণ্ড
এবার আবার সিল্ক শাল কেলেঙ্কারি। বিশ্বের অন্যতম ধনী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে TTD–র উপর এর প্রভাব গুরুতর। ক্রমাগত এই অভিযোগগুলি ভবিষ্যতে বিক্রেতা বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া, তদারকি ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা সম্পর্কে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।