Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

৭০ হাজার কোটির হিসাব দেয়নি নীতীশ সরকার! অনিয়মের আভাস ক্যাগ রিপোর্টে

২০২৩-২৪ আর্থিক বছরের রাজ্য অর্থ সংক্রান্ত নিরীক্ষা রিপোর্ট বৃহস্পতিবার বিহার বিধানসভায় পেশ করা হয়। সেখানেই উঠে আসে এই বিস্ফোরক তথ্য।

৭০ হাজার কোটির হিসাব দেয়নি নীতীশ সরকার! অনিয়মের আভাস ক্যাগ রিপোর্টে

নীতিশ

গার্গী দাস

শেষ আপডেট: 25 July 2025 18:23

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিসাব নেই ৭০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বারবার তাগাদা সত্ত্বেও জমা পড়েনি প্রায় ৫০ হাজার ব্যবহৃত অর্থের হিসেব, সংক্ষেপে ইউস (Utilisation Certificate)। বিহার সরকারের বিরুদ্ধে এই মারাত্মক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলল দেশের মহা হিসাবরক্ষক বা ক্যাগ (Comptroller and Auditor General)।

২০২৩-২৪ আর্থিক বছরের রাজ্য অর্থ সংক্রান্ত নিরীক্ষা রিপোর্ট বৃহস্পতিবার বিহার বিধানসভায় পেশ করা হয়। সেখানেই উঠে আসে এই বিস্ফোরক তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৪৯,৬৪৯টি ইউস বকেয়া রয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ৭০,৮৭৭.৬১ কোটি টাকা। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই সব হিসেব জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

রিপোর্টে ক্যাগ স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে, এই ইউস জমা না পড়া অর্থাৎ অর্থ ব্যবহারের যথাযথ প্রমাণ না থাকার ফলে তা দুর্নীতি, তছরুপ বা অন্য কাজে অর্থ ঘুরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকিকে মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তদন্তে আরও চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই বিশাল অঙ্কের বকেয়ার মধ্যে ১৪,৪৫২.৩৮ কোটি টাকার ইউস ২০১৬-১৭ সালের আগের। অর্থাৎ এই হিসাব-লঙ্ঘন বহু পুরনো এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা সমস্যা।

সবচেয়ে বেশি ইউস বকেয়া যেসব দফতরের। ৫টি দফতর মিলেই অধিকাংশ ইউস জমা না পড়ার ঘটনায় শীর্ষে রয়েছে। তাদের বকেয়া টাকার পরিমাণ এই রকম—

  • পঞ্চায়েতি রাজ দফতর: ২৮,১৫৪.১০ কোটি টাকা
  • শিক্ষা দফতর: ১২,৬২৩.৬৭ কোটি টাকা
  • নগরোন্নয়ন দফতর: ১১,০৬৫.৫০ কোটি টাকা
  • গ্রামীণ উন্নয়ন দফতর: ৭,৮০০.৪৮ কোটি টাকা
  • কৃষি দফতর: ২,১০৭.৬৩ কোটি টাকা
  • এসি বিল, ডিসি বিলেও অনিয়ম

সরাসরি খরচের জন্য ব্যবহৃত অ্যাবস্ট্র্যাক্ট কন্টিনজেন্ট (AC) বিলের পর ডিসি (Detailed Contingent) বিল দিয়ে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, সেখানে আরও অনিয়ম ধরা পড়েছে। মার্চ ২০২৪ পর্যন্ত, ২২,১৩০টি এসি বিলের বিনিময়ে মোট ৯,২০৫.৭৬ কোটি টাকার ডিসি বিল জমা পড়েনি। ক্যাগ জানিয়েছে, এই অনিয়ম অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং সরকারি অর্থ অপব্যবহারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বাজেট বাস্তবায়ন ও রাজ্যের ঋণচিত্র

২০২৩-২৪ সালে বিহারের বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৩.২৬ লক্ষ কোটি টাকা। তার মধ্যে ২.৬০ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, যা মোট বাজেটের ৭৯.৯২ শতাংশ। অথচ রাজ্যের মোট সঞ্চয়ের মধ্যে মাত্র ৩৬.৪৪ শতাংশ অর্থাৎ ২৩,৮৭৫.৫৫ কোটি টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই অদক্ষ বাজেট ব্যবস্থাপনাকেই কাঠগড়ায় তুলেছে ক্যাগ।

আরও উদ্বেগের বিষয়, বিগত বছরের তুলনায় রাজ্যের মোট দায় বা ঋণ ১২.৩৪ শতাংশ বেড়েছে। যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে ১৩.৫১ শতাংশ, অর্থাৎ রাজ্যের ঘাড়ে নতুন করে ২৮,১০৭.০৬ কোটি টাকার বোঝা চেপেছে।

বিধানসভায় রিপোর্ট পেশ হওয়ার পরই বিরোধী দলগুলি বিহার সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে। আর্থিক শৃঙ্খলার এমন চিত্র সামনে আসায় রাজ্যবাসীর টাকা কোথায় যাচ্ছে, সেই প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র। সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


```