রাজনৈতিক মহলের মতে, বিহারের পর কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ-সহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে এসআইআর চালু করতে পারে। কেন্দ্রের একাধিক বৈঠকে এই পরিকল্পনার কথা আলোচিত হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 July 2025 14:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারে (Bihar) নভেম্বরে ভোট। তার আগে স্পেশ্যাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) কার্যত শেষের পথে। যা নিয়ে রাজনীতিতে তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়ে গেছে। সেই আতঙ্কের ঢেউ এখন আছড়ে পড়ছে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতেও। গত ৭ দিনে একাধিক জেলায় ভোটার তালিকায় নাম তোলার হিড়িক পড়ে গেছে। কিন্তু কেন?
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের সীমান্তের বেশিরভাগ জেলায় ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনের সংখ্যা এক ধাক্কায় তিন গুণ বেড়ে ৭৫ হাজার ছুঁয়েছে। সাধারণত যেখানে সপ্তাহে ২০-২৫ হাজারের বেশি আবেদন আসে না। এই জেলাগুলির মধ্যে মূলত রয়েছে - কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, নদিয়া, দুই ২৪ পরগনা।
এখন একটাই প্রশ্ন — হঠাৎ ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য এত তাড়াহুড়ো কেন?
আসলে আতঙ্কের মূল কারণ নাগরিকত্ব হারানো! কেন্দ্র ও একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকার ভোটার তালিকা থেকে 'ভোটার তাড়াচ্ছে' বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই নিয়েই বাংলার সীমান্তের মানুষের মধ্যে ‘নাগরিকত্ব হারানোর’ আতঙ্ক তীব্র। কারণ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে, আগামী দিনে এসআইআরের সময় নাগরিকত্ব প্রমাণের পথে বড় বাধা আসতে পারে। ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে এনএআরএ (National Anti-Repatriation Act)-এর আওতায় 'পুশব্যাক' বা সীমান্তে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকির কথাও প্রচার হচ্ছে সীমান্তে।
একাধিক জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, বয়স্করা, যারা এতদিন পরিচয়পত্রের ঝক্কি এড়িয়ে ভোট দিয়ে এসেছেন, তারাও ছুটছেন ফর্ম ৬ জমা দিতে। কারণ, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে, নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, ভোটাধিকারও চলে যাবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিহারের পর কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ-সহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে এসআইআর চালু করতে পারে। কেন্দ্রের একাধিক বৈঠকে এই পরিকল্পনার কথা আলোচিত হয়েছে। ফলত, সীমান্তের মানুষের মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য রোজ ভিড় বাড়ছে বিডিও অফিস, পঞ্চায়েত অফিসে। কমিশনের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, দিনে গড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার নতুন ফর্ম জমা পড়ছে প্রতিটি জেলায়।
এখন কমিশনের সামনে বড় প্রশ্ন — ভোটার তালিকায় নাম তোলার এই হিড়িকের আড়ালে কোনও সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কি না?
নির্বাচন কমিশনের এক শীর্ষ কর্তার কথায়, “আমরা জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের বিশেষ নজরদারি বাড়াতে বলেছি। সব ফর্মের ক্ষেত্রেই পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ফর্ম জমা দিয়ে একদিনে নাম তোলার ব্যবস্থা নেই। নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হবে।”
তবে সিইও অফিসের এক প্রাক্তন কর্তার কথায়, ভোটার তালিকায় নাম তোলার এই হিড়িক এখন অস্বাভাবিক মনে হলেও, বছরের একেক সময়ে এমন ছবি ধরা পড়ে জেলায় জেলায়।