দিল্লিতে আয়োজিত সদ্যসমাপ্ত নীতি আয়োগের দশম কাউন্সিল বৈঠকে ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ৩১টি অংশ নেয়।

নীতি আয়োগের দশম কাউন্সিল বৈঠক
শেষ আপডেট: 25 May 2025 09:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে আয়োজিত সদ্যসমাপ্ত নীতি আয়োগের দশম কাউন্সিল বৈঠকে ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ৩১টি অংশ নেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে অংশ নেন একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও লেফটেন্যান্ট গভর্নররা। মুখ্যমন্ত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের রোডম্যাপ এবং রাজ্যগুলিকে এক ছাতার নিচে এনে ‘টিম ইন্ডিয়া’ হিসেবে কাজ করার বার্তা দেন।
বৈঠকে উঠে আসে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে সাম্প্রতিক জঙ্গি হানার প্রসঙ্গ এবং তার জবাবে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জোর দেওয়া হয় নাগরিক প্রতিরক্ষার ওপর। নীতি আয়োগের বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিক প্রস্তুতির পদ্ধতি আধুনিকীকরণ করা জরুরি। সাম্প্রতিক মক ড্রিলগুলি নাগরিক প্রতিরক্ষা নিয়ে আমাদের মনোযোগ ফের জাগিয়ে তুলেছে। রাজ্যগুলির উচিত এই প্রস্তুতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া।”
একইসঙ্গে, অপারেশন সিঁদুরের ‘নির্ভুলতা’ এবং ‘টার্গেট নির্ভর সাফল্য’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও এলজিদের তরফে প্রশংসা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বকেও কুর্নিশ জানান নেতারা।
কারা কী বললেন?
তামিলনাড়ু:
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন দাবি তোলেন, ‘সমগ্র শিক্ষা অভিযান’ প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র ২,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করুক। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় রাজস্বের ৫০ শতাংশ রাজ্যগুলিকে দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
হিমাচল প্রদেশ:
মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখ্খু প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন তুরস্ক ও আজারবাইজান থেকে আসা আমদানিকৃত আপেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য। তাঁর যুক্তি, “আমদানি করা আপেলের দাম কমার কারণে আমাদের রাজ্যের চাষিরা বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।” তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে হিমাচলের বাগান মালিকদের স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
পাঞ্জাব:
মুখ্যমন্ত্রী ভাগবন্ত মান প্রস্তাব দেন শতদ্রু-যমুনা লিংক (SYL) খালের পরিবর্তে যমুনা-শতদ্রু লিংক (YSL) খাল নির্মাণের। তাঁর দাবি, “যমুনা থেকেও জল পেতে পাঞ্জাবের অধিকার রয়েছে। যেহেতু রবি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীতে জল ঘাটতি রয়েছে, তাই উদ্বৃত্ত অববাহিকা থেকে ঘাটতিযুক্ত অঞ্চলে জল সরানো প্রয়োজন।”
তবে, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ সহ কয়েকটি রাজ্য অংশ নেয়নি। তবু উপস্থিত বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী, যা পরবর্তীতে নীতি আয়োগের বিবৃতিতেও প্রতিফলিত হয়।