
শেষ আপডেট: 1 February 2024 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন ২০২২ সালের মধ্যে দেশের সব পরিবারের মাথায় পাকা ছাদ থাকবে। কেউ কাঁচা বাড়িতে থাকবেন না। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে ডাহা ফেল করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার অন্তর্বতী সাধারণ বাজেটে নতুন টার্গেটের কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
গ্রামীণ আবাস যোজনা কেন্দ্রে ইউপিএ জমানাতেও ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রকল্পের কিছু পোশাকি পরিবর্তন করা হয়। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে নতুন উদ্যমে আবাস যোজনা শুরু করার সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন যে, ২০২২ সালের মধ্যে দেশের ৩ কোটি পরিবারের মাথায় পাকা ছাদ থাকবে।
এই ৩ কোটি সংখ্যাটি হাওয়ায় ভেসে আসেনি। ২০১১ সালে আর্থ সামাজিক জাতি সমীক্ষা করে জানা গেছিল দেশের ২.৯৫ কোটি পরিবারের মাথায় পাকা ছাদ নেই। তারই ভিত্তিতে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনা হল, ২০২২ সালের মধ্যে সেই লক্ষ্যের ধারে কাছেও পৌঁছতে পারেনি মোদী সরকার। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে দেখা যায়, ৮৪ লক্ষ পরিবার তখনও প্রকল্পের সুবিধা পায়নি।
শহরের আবাস যোজনার বাস্তবায়নের অবস্থা আরও খারাপ। ১.২৫ কোটি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে মাত্র ৬১ লক্ষ পরিবার সুবিধা পেয়েছে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত।
এদিন অন্তবর্তী বাজেটে নির্মলা সীতারামন দাবি করেছেন, ৩ কোটি পরিবারের জন্য পাকা ছাদের ব্যবস্থা করার যে লক্ষ্য নিয়েছিল সরকার তা প্রায় পূরণ হয়ে গেছে। পাঁচ বছরের মধ্যে আরও ২ কোটি পরিবারের জন্য পাকা ছাদের ব্যবস্থা করবে সরকার। কারণ, জনসংখ্যা বাড়ছে, তাই পরিবার বাড়ছে। আরও বেশি সংখ্যক বাসস্থান জরুরি হয়ে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা খাতে বাংলায় প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ পরিবারের পাকা বাড়ি বানানোর জন্য সরকারি অনুদান পাওয়ার কথা ছিল। এজন্য কেন্দ্র ৮২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার ঘোষণা করেও অনিয়মের অভিযোগ তুলে আটকে রেখেছে। এই সাড়ে ১১ লক্ষ পরিবারের জন্য রাজ্যেরও বরাদ্দ করার কথা ছিল প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু কেন্দ্র বরাদ্দ বন্ধ রাখায় রাজ্যও বরাদ্দ করতে পারছে না।
হিসাব মতো এই সাড়ে ১১ লক্ষ পরিবার ছাড়াও বাংলায় আরও প্রায় ১৪ লক্ষ পরিবারের মাথায় পাকা ছাদ নেই। নির্মলার এদিনের ঘোষণার পরেও বাংলার এই ২৫ লক্ষ পরিবার শেষমেশ কবে টাকা পাবে তা একেবারেই অনিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।