লোকসভায় GST বিতর্ক ঘিরে নির্মলা সীতারামন ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 11 February 2026 22:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা এক সময়ে ছিল দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী। এখন সেখানে ‘বম্ব কালচার’ চলছে—এমনই কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Union Finance Minister Nirmala Sitharaman)। বুধবার লোকসভায় GST নিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (TMC MP Abhishek Banerjee) বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নারী নির্যাতনের অভিযোগ এবং দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ধর্ষণের প্রসঙ্গ তুলে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন। পাশাপাশি তাঁর দাবি, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে (Budget 2026-27) কোনও রাজ্যের সঙ্গেই বঞ্চনা করা হয়নি।
গত মঙ্গলবার বাজেট আলোচনা চলাকালীন কেন্দ্রকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ ছিল, ‘জন্ম থেকে মৃত্যু, মানুষের গোটা জীবনটাই ট্যাক্সের ফাঁদে আটকে।’ বর্তমানে ধূপের উপর ৫ শতাংশ GST আরোপিত হয়। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর পর শোকসভায় ধূপ জ্বালাতেও পরিবারকে ট্যাক্স দিতে হয়।’ যদিও বুধবারের জবাবে নির্মলা সরাসরি GST হার নিয়ে কিছু বলেননি। তবে অভিষেকের মন্তব্যকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি কটাক্ষ করেন, ‘মৃত্যুর পরেও GST, খুবই দুঃখের কথা। কিন্তু বাংলায় তো মৃত্যুর পর কাটমানি নেওয়াটাই স্বাভাবিক।’
In Kaliganj, in June 2025, a girl was killed in a bomb blast. A TMC leader was also arrested in that case.
In Medinipur, a TMC leader was arrested in connection with a bomb incident.
'बंगाल में बम चलता है, कानून नहीं चलता।'
According to National Crime Records Bureau (NCRB)… pic.twitter.com/178eGCQyUV— Nirmala Sitharaman Office (@nsitharamanoffc) February 11, 2026
এর পরেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তোপ দাগেন। নির্মলার কথায়, ‘বাংলায় আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। গোটা রাজ্যেই বম্ব কালচার (Bomb Culture) চলছে।’ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাজ্য সরকার ব্যর্থ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গে দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ধর্ষণের ঘটনা টেনে আনেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (West Bengal CM Mamata Banerjee) বলেছিলেন, ‘বিভিন্ন রাজ্যের ছেলেমেয়েরা এখানে পড়তে আসে। তাঁদের অনুরোধ করব, রাতে বাইরে না বের হতে।’ এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘যে যেখানে খুশি যেতে পারে, সেটা তার অধিকার। তবে হস্টেলের একটি সিস্টেম আছে।’ সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নির্মলার মন্তব্য, ‘রাতে বাইরে বেরলে ধর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে—একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এমন কথা শুধু হাস্যকর নয়, অপমানজনকও।’
এদিকে নির্মলার সব অভিযোগই খারিজ করেছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্নের কোনও সদুত্তর নেই। তাই সংসদে দাঁড়িয়ে অসত্য কথা বলা হচ্ছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী উত্তরপ্রদেশ, অসম, রাজস্থানের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যের তুলনায় বাংলায় মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা কম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্টে কলকাতাকে দেশের সবচেয়ে নিরাপদ শহর বলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির প্রসঙ্গ টেনে জয়প্রকাশের খোঁচা, ‘তিনিও বিজেপির মন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু এভাবে অম্লানবদনে অসত্য বলতেন না।’
I genuinely wish the Finance Minister had taken the time to examine the sources of the information I tabled in the Lok Sabha last evening before delivering her reply. But perhaps expecting that degree of diligence and intellectual engagement is asking for too much.
I come from… https://t.co/ny4tBgjSKJ— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) February 11, 2026
লোকসভায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের জবাব ঘিরে কটাক্ষ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, লোকসভায় তিনি যে তথ্য পেশ করেছিলেন, তার ভিত্তি যাচাই করে দেখা উচিত ছিল। তবে সেই ধরনের ‘পরিশ্রম ও বৌদ্ধিক মনোযোগ’ আশা করা হয়তো বাড়াবাড়ি হয়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের বক্তব্যে তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক বৈষম্যের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর কথায়, দেশে যেন দু’টি বাস্তবতা রয়েছে, একদিকে এমন পরিবার, যাদের পক্ষে পেঁয়াজ কেনাও কঠিন, যেখানে বেঁচে থাকাই বড় লড়াই। অন্যদিকে দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক পদে থাকা ব্যক্তি সহজেই বলতে পারেন, তিনি পেঁয়াজ খান না, তাই তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি অতীতে পেঁয়াজের দাম নিয়ে নির্মলা সীতারামনের করা একটি মন্তব্যের দিকেও ইঙ্গিত করেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।