
পাঠ্য বইয়ে বদল করে বিতর্কে এনসিইআরটি
শেষ আপডেট: 21 July 2024 23:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাকালের পর থেকেই বারবার পাঠ্যক্রমে বদল ঘটিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে ন্যাশেনাল কাউন্সিল ফর এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং বা এনসিইআরটি। আরও একবার তাঁদের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। ফের তাঁদের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগ উঠল।
ষষ্ঠ শ্রেণির সমাজ বিজ্ঞান বইয়ে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন যে বই প্রকাশ করা হয়েছে তাতে ভারতীয় সমাজের বর্ণনায় বেদের উল্লেখ থাকলেও বর্ণ ও জাতিবাদের কোনও উল্লেখ রাখা হয়নি। পাশাপাশি হরপ্পা সভ্যতার নাম পাল্টে 'সিন্ধু-সরস্বতী সভ্যতা' করে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েই এখন শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তবে বিতর্ক এখানেই শেষ নয়।
এনসিইআরটি-র নতুন বইয়ে নারীসমাজ এবং শূদ্রদের বেদ চর্চার অধিকার না থাকার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেদে উল্লেখিত বর্ণ ও জাতিপ্রথার কোনও উল্লেখ রাখা হয়নি। এমনকী কোথাও জাতি বৈষম্যের কথাও বলা হয়নি। সব মিলিয়ে ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগে আরও একবার বিদ্ধ হতে হল এনসিইআরটি-কে। তবে তাদের যুক্তি, ২০২০-র জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নয়া বই তৈরি করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরই স্কুলের পাঠ্যক্রম সংশোধনের উদ্দেশ্যে সোশ্যাল সায়েন্সের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিল এনসিইআরটি। আর সেই কমিটিই পাঠ্যবইতে 'ইন্ডিয়া'-নামটি 'ভারত'-এ পরিবর্তন করার সুপারিশ ছিল।
কেন এই পরিবর্তন প্রশ্ন করা হলে কমিটির চেয়ারপার্সন জানান, ভারত অনেক পুরনো নাম। ৭০০০ বছরের পুরনো বিষ্ণু পুরাণের মতো প্রাচীন ইতিহাসেও 'ভারত' নামটির উল্লেখ রয়েছে। আর 'ইন্ডিয়া' নামটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিষ্ঠার পরই বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। তাই পড়ুয়াদের পাঠ্যবইয়ে 'ভারত' নামটি ব্যবহারের সুপারিশ করছে কমিটি।