নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় মন্ত্রিসভার এক বছর পূর্ণ হয়ে গিয়েছে গত মাসে। এবার মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আনতে চান প্রধানমন্ত্রী। বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর মন্ত্রক বদলও ভাবনায় আছে।

শেষ আপডেট: 15 July 2025 07:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় মন্ত্রিসভার (Third cabinet of Narendra Modi) এক বছর পূর্ণ হয়ে গিয়েছে গত মাসে। এবার মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আনতে চান প্রধানমন্ত্রী। বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর মন্ত্রক বদলও ভাবনায় আছে (union cabinet reshuffle) ।
তবে মন্ত্রিসভায় সম্প্রসারণ এবং রদবদল নতুন বিজেপি সভাপতি নির্বাচনের (after President selection) পর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। চলতি মাসেই দুটি কাজ সেরে ফেলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
রবি ও সোমবার প্রধানমন্ত্রী দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছেন। বেশ কিছুদিন বিদেশ সফরে ব্যস্ত থাকার পর দেশ ফিরে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতি তথা সরকার মনোনীত চার সাংসদের নাম চূড়ান্ত করেছেন। সোমবার তিন রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল বাছাইয়ের কাজও সেরে ফেলেছেন। বিজেপি সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী এরপর মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনবেন।

নতুন মন্ত্রী নিয়োগ, পুরনোদের কয়েকজনের মন্ত্রক বদলের পিছনে কাজে গতি, নতুন ভাবনা আনার বিষয়টি তো আছেই, আলাদা করে গুরুত্ব পেতে চলেছে বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশ। বিহারে নভেম্বরে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ওই রাজ্য থেকে কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করে রাজ্যবাসীকে বার্তা দিতে চান মোদী। তাছাড়া শরিকি বোঝাপড়া বজায় রাখতে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ এবং চিরাগ পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-এর মন্ত্রী সংখ্যা বাড়ানো হবে।
বেশ কয়েকজন মন্ত্রী রাজ্যসভার সদস্য। তাঁদের রাজ্যসভার সদস্যপদের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। তাঁদের জায়গায় নতুন মুখ আনা হবে। কয়েকজনের মন্ত্রক বদল করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভায় বদলের পিছনে বিশেষভাবে বিবেচনায় থাকবে বাণিজ্য। অর্থাৎ তিনি চান, ব্যবসা-বাণিজ্যের দিকটি বিবেচনায় রেখে মন্ত্রীরা মন্ত্রক পরিচালনা করুন। কারণ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের সঙ্গেই আমদানি-রফতানি সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতির কারণে এই ভাবনা।
প্রধানমন্ত্রী মনে করছেন, বাণিজ্যের বিষয়টি এখন আর শুধু আমলা এবং কূটনীতিকদের ভাবনার বিষয় নয়। মন্ত্রীদেরও সমানতালে সব কিছু বুঝতে হবে। নরেন্দ্র মোদী তাই চাইছেন এমন সাংসদদের মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসতে যারা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। রাজ্যসভায় যে চারজনকে মনোনীত সাংসদ হিসাবে মোদী বেছে নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা আমেরিকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দর কষাকষিতে তাঁর অভিজ্ঞতা সরকারের কাজে আসবে। শ্রিংলাকে বাছাইয়ের সেটাও একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তাছাড়া ধরে নেওয়া হচ্ছে, এটাই নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শেষ টার্ম। বাকি চার বছরে তাঁকে সাফল্যের নয়া উচ্চতা তৈরি করতে হবে। যদিও জল্পনা আছে, বয়সের কারণে তিনি আগেই সরে যেতে পারেন। বিজেপিতে অলিখিত নিয়ম আছে, ৭৫ পূর্ণ করার পর দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে দাঁড়ানো। মোদী আগামী সেপ্টেম্বরে ৭৫-এ পা দেবেন।