বাংলাদেশের কূটনীতিতে আম আর ইলিশের বিশেষ কদর রয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে নিয়ম করে আম, ইলিশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিদেশ মন্ত্রী এবং বাংলা-সহ চার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের পাঠাতেন।

শেষ আপডেট: 14 July 2025 08:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঢাকা (Dhaka) থেকে দিল্লিগামী (Delhi) একটি বিমানে এক হাজার কেজি আম (Mango) তোলা হয়েছে। সোমবার সেগুলি দিল্লি পৌঁছে যাবে। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস (Md Yunus) সেগুলি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার দুপুরেই কলকাতায় (Kolkata) পৌছতে পারে কয়েকশো কেজি বাংলাদেশি আম। কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপদূতাবাস সেগুলি পৌঁছে দেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (West Bengal CM Mamata Banerjee) কাছে। প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকেও আম পাঠিয়েছেন। ত্রিপুরা, অসম, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রীদেরও আম পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। এই তিন রাজ্যের সঙ্গেও বাংলাদেশের সীমান্ত আছে।
ইউনুস উপহার হিসেবে হাঁড়িভাঙা আম পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশের উত্তরের জেলা রংপুরের এই আম অত্যন্ত সুস্বাদ্য এবং আঁশবিহীন। আঁটিটি আয়তনে খুবই ছোট। এই আমের যাত্রা শুরু হয়েছিল রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার তেকানী গ্রাম থেকে। আমের স্বাদের মতো এর নামকরণের কাহিনিও আকর্ষণীয়। হাঁড়িভাঙা আম প্রথম উৎপাদন করেন নফল উদ্দিন পাইকার নামে কেতানী গ্রামের এক চাষী। দুটি চারার একটি চুরি হয়ে গেলে আর একটিতে তিনি উপরে মাটির হাঁডি ঝুলিয়ে গাছে জল দিলেন। কেউ সেই হাঁড়িটি ভেঙে দেয়। ঘটনাচক্রে সে বছর প্রচুল ফলন হয় গাছটিতে।
বাংলাদেশের কূটনীতিতে আম আর ইলিশের বিশেষ কদর রয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে নিয়ম করে আম, ইলিশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিদেশ মন্ত্রী এবং বাংলা-সহ চার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের পাঠাতেন। তা নিয়েও হাসিনার ভারতপ্রীতি নিয়ে কটাক্ষের বন্যা বয়ে যেত সমাজমাধ্যমে। এখন দু-দেশের সম্পর্ক যখন তলানিতে ঠেকেছে তখন ইউনুস কেন আম কূটনীতির চেনা পথে হেঁটে ভারতকে খুশি করতে চাইছেন সেই প্রশ্নে ছেয়ে গিয়েছে সমাজমাধ্যম। কেউ কেউ এমন কথাও বলছেন, ঠেলার নাম বাবাজি। জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্য, বেহাল আর্থিক পরিস্থিতির মুখে ‘দিল্লির দিল’ জেতার চেষ্টা চালাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। সাম্প্রতিক অতীতে নয়াদিল্লি বাংলাদেশের উপর বেশ কিছু আমদানি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, নয়া দিল্লির কঠোর অবস্থানের পরও ঢাকার ঘনিষ্ঠতার বার্তার পিছনে আছে মার্কিন রপ্তানি নীতি। বাংলাদেশি পন্যের উপর ৩৫ শতাংশ হারে শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য করে বাংলাদেশের লাভ হবে না। এই পরিস্থিতিতে ভারত-সহ প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে মেরামত করতে চাইছে বাংলাদেশ।