এই আমন্ত্রণের তাৎপর্য গভীর। কারণ, অতীতে আলিপুরদুয়ার কিংবা নেতাজি ইন্ডোরে অমিত শাহের সভার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 14 July 2025 14:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি, একসময়ের মোদী-ঘনিষ্ঠ দিলীপ ঘোষ এবার ডাক পেলেন প্রধানমন্ত্রীর জনসভায়। ১৮ জুলাই, দুর্গাপুরে নরেন্দ্র মোদীর সভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় রয়েছেন দিলীপের নাম।
এই আমন্ত্রণের তাৎপর্য গভীর। কারণ, অতীতে আলিপুরদুয়ার কিংবা নেতাজি ইন্ডোরে অমিত শাহের সভার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ফলে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দলের অন্দরে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। দিলীপ নিজেও প্রকাশ্যে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “দলীয় বৈঠকে একটা চেয়ারও জোটে না।” সেই মন্তব্য ঘিরে কম জলঘোলা হয়নি।
কিন্তু বিজেপির নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের আগমনের পরেই বদলাতে শুরু করেছে ছবিটা। দায়িত্ব নেওয়ার সময়েই তিনি জানিয়েছিলেন, দল চলবে ‘পুরনো-নতুন’ সবাইকে নিয়েই। আর তারই প্রতিফলন দেখা গেল এই আমন্ত্রণে।
দলীয় সূত্রের খবর, দিলীপ ঘোষ অবশ্যই দুর্গাপুরের জনসভায় উপস্থিত থাকবেন। একইসঙ্গে শোনা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গে দলের সংগঠন চাঙ্গা করতে যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তাতে দিলীপ ঘোষেরই অগ্রণী ভূমিকা থাকবে। শমীকের কৌশলী অবস্থান এবং দলের অভিজ্ঞ মুখদের গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়োচ্ছে সংগঠনের অন্দরে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দিলীপ ঘোষকে ফের প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে নিয়ে আসা নিছক সৌজন্য নয়, বরং শমীকের ‘সেতুবন্ধন রাজনীতি’র প্রথম স্পষ্ট বার্তা। যার উদ্দেশ্য, দীর্ঘদিন ধরে চলা অন্তর্দ্বন্দ্বের ইতি টেনে রাজ্য বিজেপিকে ফের ঐক্যবদ্ধ করা।
এখন দেখার, দিলীপের এই প্রত্যাবর্তন রাজ্য রাজনীতিতে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে। তবে আপাতত একটা জিনিস পরিষ্কার, দলের পুরনো সৈনিকদের ‘অযোগ্য’ ভাবার দিন সম্ভবত শেষ।