তাঁর কথায়, ‘তাঁরা কেন রাস্তায় নামবেন না, তাঁদের জীবন থেকে দশ বছর ‘চুরি’ হয়ে গেছে।’ শুধু তাই নয়, স্পষ্ট ভাষায় সরকারকে বিদ্ধ করলেন তিনি।

বিজেপির সদ্য নির্বাচিত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 14 July 2025 13:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৬-র চাকরিহারা শিক্ষকদের নবান্ন অভিযানকে সরাসরি সমর্থন জানালেন বিজেপির সদ্য নির্বাচিত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, ‘তাঁরা কেন রাস্তায় নামবেন না, তাঁদের জীবন থেকে দশ বছর ‘চুরি’ হয়ে গেছে।’ শুধু তাই নয়, স্পষ্ট ভাষায় সরকারকে বিদ্ধ করলেন তিনি।
শমীক জানান, ‘শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক লুঠ আর কিছু ক্রেতা-বিক্রেতাকে বাচিয়ে রাখার জন্য, এই দুর্নীতিকে আড়াল করার জন্য, পরের টাকা নিয়ে রাজ্য সরকার মুড়ি মিছরি এক করে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে, সেখান থেকেও তিরস্কৃত হচ্ছে। রাজ্য সরকারের অবস্থান আইনব্যবস্থা, বিচারপতি আদালতের অবমাননা ছাড়া আর কিছু নয়।’
রাজ্যের বিরোধী দলের সদ্য নির্বাচিত সভাপতির চাঁচাছোলা কটাক্ষ, ‘তৃণমূলকে তৃণমূলের হাত থেকে বাঁচানোর জন্যই তৃণমূলের বিসর্জন একান্ত প্রয়োজন। বিজেপি অবস্থানগত ভাবে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে কোনও নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দেওয়ার পক্ষে নয়। সব জায়গায় এখন একই চর্চা – এই সরকার আছে কেন? যেখানে সাংবিধানিক ব্যবস্থাটাই ভেঙে পড়েছে, যেখানে আইনের শাসন নেই। আমরা তৃণমূল কংগ্রেসকে শহিদ হতে দেব না। রাজনীতি-সচেতন মানুষ সঙ্ঘবদ্ধ হচ্ছেন, তাঁরা এটাকে পশ্চিমবাংলাদেশ হতে দেবেন না, লুটেরাদের রাজ্য হতে দেবেন না।
এদিকে দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সমীক্ষায় নির্বাচন কমিশনের অগস্ট মাস থেকে বিশেষ সমীক্ষার কাজ শুরুর ভাবনাচিন্তা চলছে। কমিশন সূত্রের খবর, বিভিন্ন রাজ্যে কমিশনের কর্মীদের সক্রিয় করা হয়েছে বিহার ইতিমধ্যেই সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে। সেই প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য তাঁর তথা কার্যত দলের অবস্থানই স্পষ্ট করে জানান, ‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ রোহিঙ্গামুক্ত, বাংলাদেশ অনুপ্রবেশমুক্ত ভোটার লিস্ট। এর জন্য আমরাও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। ১৩ লক্ষ ভুয়ো ভোটারের নাম আমরা ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছি। এটা নির্বাচন কমিশনের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ। পশ্চিমবঙ্গ, ভারত কোনও ধর্মশালা নয়, ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে দেশের আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা কম্প্রোমাইজড হবে, এটা কেউ চায় না।’ এই প্রসঙ্গে তিনি অ-বিজেপিশাসিত রাজ্য তামিলনাড়ুর বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিচয় খতিয়ে দেখার কথাও তুলে আনেন।
রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর ১৬ তারিখ যে পদযাত্রা হচ্ছে, সেটাকে ‘কার্যত একটা আত্মঘাতী অবস্থান’ বলে আখ্যাও দেন শমীক। তাঁর কথায়, এটা সারা ভারতের বাঙালি ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছেন।
আইআইএম জোকায় তরুণীর ‘ধর্ষণের’ ঘটনা নিয়েও মুখ খুললেন তিনি। এই নিয়ে তাঁর কাছে সম্পূর্ণ তথ্য নেই, একথাও জানান তিনি। তবে তাঁর কথায়, ‘সমস্ত ঘটনাকেই ধর্ষণ বলে ঝাঁপিয়ে পড়া ঠিক নয়। তবে যেটা ঘটেছে সেটা দুর্ভাগ্যজনক। এরকম উচ্চমানের দেশব্যাপী প্রতিষ্ঠানে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য, আর একটা ঘটনাকে কিছু হওয়ার আগেই ধর্ষণ বলে প্রচার, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছে সাধারণ মানুষ এটা আশা করেন না।’