বিদেশমন্ত্রক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, “আমেরিকা আজও রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লুরাইড (পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য), প্যালাডিয়াম (ইভি প্রযুক্তির জন্য), রাসায়নিক ও সার আমদানি করছে।”

মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 5 August 2025 07:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার (Russia) থেকে তেল কেনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যখন ভারতকে শুল্ক (Tariff) বাড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন, ঠিক তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দিল ভারত (India)। আমেরিকা (US) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে সরাসরি আঙুল তুলল নয়াদিল্লি।
সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার জেরেই রাশিয়া থেকে ছাড়ে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় আমেরিকাও ভারতের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছিল, যাতে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল থাকে।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, “ভারতের আমদানি নিতান্তই প্রয়োজনের কারণে। দেশের সাধারণ মানুষের জন্য যাতে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সেটাই লক্ষ্য। কিন্তু যাঁরা আমাদের সমালোচনা করছেন, তাঁদেরই অনেক বেশি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য রয়েছে। অথচ তাদের ক্ষেত্রে কোনও জাতীয় বিপদের দোহাই নেই।”
এখানেই থেমে থাকেনি দিল্লি। আরও এক ধাপ এগিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে রাশিয়ার ২০২৪ সালের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে, যা ভারতের মোট রাশিয়া-বাণিজ্যের চেয়ে বহু গুণ বেশি।
বিদেশমন্ত্রক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, “আমেরিকা আজও রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লুরাইড (পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য), প্যালাডিয়াম (ইভি প্রযুক্তির জন্য), রাসায়নিক ও সার আমদানি করছে।”

এর আগে ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, “ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে তেল কিনছে। ওরা তো ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনে নিহতদের তোয়াক্কা করছে না। তাই আমি ভারতের উপর আমেরিকায় রফতানি হওয়া পণ্যের শুল্ক বাড়াব।”
তার উত্তরে ভারত জানিয়ে দেয়, দেশ নিজের জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেয়। কাউকে খুশি করতে নয়।
দিল্লি আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে, ভারতের বিদেশনীতি সর্বদা বাস্তববাদী এবং স্বাধীন অবস্থানের উপর দাঁড়িয়ে। বিশ্ব বাজারের অস্থিরতা মাথায় রেখেই প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।